ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিপুরে ৪টি সংসদীয় আসনে উৎসব মুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট গ্রহন শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট গ্রহনের নির্বারিত সময়ের আগেই ভোট দিতে নারী ও পুরুষ ভোটাররা সারিবদ্ধ হয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন।
ফরিদপুর- ৩ আসনে শহরের ভাটিলক্ষীপুর নারী কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। সকাল সকাল ভোট দেয় বাড়ি ফিরে যেতে চান তারা। তাছাড়া দীর্ঘদিনপর শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হচ্ছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
ফরিপুরে চারটি সংসদীয় আসনেই বিএনপির সাথে জামায়াত জোটের তীব্র প্রতিদ্বন্দীতা মূলক নির্বাচন হবে। চারটি আসনে বিএনপি ও জামায়াতসহ ২৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দীতা করেছেন।
ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালারী-আলফাডাঙ্গা) আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম ও জামায়াতের মোঃ ইলিয়াস মোল্লা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাসার খানের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে বিএনপির শামা ওবায়েদের সাথে জামায়াত জোটের মাওলানা আকরাম আলী ধলা হুজুরের প্রতিযোগীতা হবে।
ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী নায়াব আহম্মেদের সাথে জামায়াতের প্রার্থী প্রফেসর আব্দুত তাওয়াব এর লড়াই হবে।
এছাড়া ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনে বিএনপির শহিদুল ইসলাম বাবুল ও জামায়াতের সরোয়ার হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাহিদ বেগের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দীতা হবে বলে মনে করছেন নির্বাচন বোদ্ধারা।
জেলায় চারটি আসনে ১৭ লক্ষ ৭১ হাজার ৯২৩জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লক্ষ ২ হাজার ৯১১ জন ও নারী ভোটার ৮ লক্ষ ৬৯ হাজার ৪জন।
৬৫৭টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। ৩৭৬টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করেছে প্রশাসন। এরমধ্যে ১৫৪টি ঝুকিপূর্ণ ও দূর্গম পদ্মার চরে ২৪টি কেন্দ্র এবং দুটি অস্থায়ী কেন্দ্র রয়েছে।
নির্বাচনে নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যসহ বিপুল সংখ্যক আইন শৃঙ্খলবাহিনী নিয়োজিত রয়েছে।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান মোল্লা জানান, নির্বাচনে নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে এবারই প্রথম সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। অনাকাঙ্খিত পরিবেশ সৃষ্টি করলে তাদের আইনের আওতায় আনা সহজ হবে।
নির্বাচনে জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এর ১৪টি টিম, ৩৬ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, সেনাবাহিনীর ২৮টি, বিজিবির ১৩টি টিম ও পুলিশের প্রায় ১৮০০ সদস্য ছাড়াও আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থার বিপুল সংখ্যক সদস্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে কাজ করছেন। অত্যন্ত সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই ভোট গ্রহন শেষ হবে। কেউ পরিবেশ অশান্ত করতে চাইলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
