ঢাকা, ৩১ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

কুষ্টিয়ায় কোন্দলে বিপর্যস্ত বিএনপি: জামায়াতের ভোট বিপ্লব ও নেপথ্য কাহিনি

সারাদেশ | খালেকুজ্জামান এলজি। কুষ্টিয়া প্রতিনিধি।

(৫ মাস আগে) ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সোমবার, ৮:৩২ পূর্বাহ্ন

banglahour

কুষ্টিয়া জেলা বরাবরই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই দুর্গে বড় ধরনের ধস নেমেছে। চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অভাবনীয় জয় পেয়েছে, আর বিএনপি মাত্র একটি আসন ধরে রাখতে পেরেছে।


নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফলাফল কেবল ভোটের হিসাব নয়—বরং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক বাস্তবতা ও রাজনৈতিক সমীকরণের প্রতিফলন।


ফলাফলের সংক্ষিপ্ত চিত্র
কুষ্টিয়া–১ (সদর)
রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা (ধানের শীষ): ১,৬৫,০৮৫ ভোট
মাওলানা বেলাল উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা): ৮৫,০৮৫ ভোট
কুষ্টিয়া–২ (মিরপুর–ভেড়ামারা)
মো. আব্দুল গফুর (দাঁড়িপাল্লা): ১,৮৯,৮১৬ ভোট
ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী (ধানের শীষ): ১,৪৩,২৮২ ভোট
কুষ্টিয়া–৩ (সদর)
মুফতি আমির হামজা (দাঁড়িপাল্লা): ১,৮০,৬৯০ ভোট
প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার (ধানের শীষ): ১,২৬,৯০৯ ভোট
কুষ্টিয়া–৪ (কুমারখালী–খোকসা)
মো. আফজাল হোসেন (দাঁড়িপাল্লা): ১,৪৬,২০৪ ভোট
সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী (ধানের শীষ): ১,৩৮,৫৭৪ ভোট
বিএনপির ঘরের শত্রু ও জনবিচ্ছিন্নতা
মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দলই ছিল বড় কারণ। কমিটি বিলুপ্তি, নতুন কমিটি গঠন নিয়ে অসন্তোষ এবং মনোনয়ন নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা দলকে দুর্বল করে দেয়।
কুষ্টিয়া–২ আসনে বিশেষভাবে প্রভাব পড়ে সমন্বয়হীনতার কারণে। মনোনয়ন প্রত্যাশী অধ্যাপক শহিদুল ইসলামকে বাদ দিয়ে ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরীকে প্রার্থী করায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। প্রতিবাদ সমাবেশের পরও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত না বদলানোয় কর্মীদের একাংশ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।


একই চিত্র কুষ্টিয়া–৩ ও ৪ আসনেও দেখা যায়। স্থানীয় কমিটি ও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দ্বন্দ্ব ভোটারদের কাছে নেতিবাচক বার্তা দেয়। পাশাপাশি কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে দখলবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ জনমনে বিরূপ প্রভাব ফেলে।


জামায়াতের ‘নিঃশব্দ বিপ্লব’
বিএনপি যখন অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ব্যস্ত, তখন জামায়াত তৃণমূলভিত্তিক সংগঠন শক্তিশালী করতে কাজ করে। নিয়মতান্ত্রিক প্রচারণা, ব্যক্তিকেন্দ্রিক জনপ্রিয়তা এবং নারী ভোটারদের লক্ষ্য করে প্রচারণা তাদের বড় সুবিধা দেয়।
বিশেষ করে মুফতি আমির হামজার মতো পরিচিত ব্যক্তিত্বকে সামনে আনা এবং ঘরে ঘরে যোগাযোগ কৌশল নির্বাচনী ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


ভবিষ্যতের বার্তা
কুষ্টিয়া–১ আসনে বিএনপির জয় প্রমাণ করে দলীয় ঐতিহ্য ও প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা এখনো প্রভাব রাখে। তবে বাকি তিন আসনের ফলাফল দলটির জন্য বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


কুষ্টিয়ার এই ফলাফল শুধু জয়-পরাজয় নয়, বরং ভোটারদের একটি বার্তা—
ক্ষমতার প্রভাব নয়, সংগঠন, শৃঙ্খলা ও জনসম্পৃক্ততাই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতের রাজনীতি।


বিএনপি কি পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে দুর্গ পুনরুদ্ধার করতে পারবে, নাকি জামায়াত স্থায়ী শক্তি হয়ে উঠবে—সময়ই দেবে তার উত্তর।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯