ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে। জোটের শরিকদের ৩টি আসনসহ দলটির মোট আসন দাঁড়ায় ২১২টিতে।
উন্মুক্ত স্থানে শপথ অনুষ্ঠান
প্রচলিত প্রথা ভেঙে এবার বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ, তিন বাহিনীর প্রধান, বিচার বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা, কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
বিদেশি অতিথি
কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও কাতারসহ ১৩টি দেশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। ভারতের পক্ষে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সময়সূচি
বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন। বিকেল ৪টা ৪ মিনিটে রাষ্ট্রপতির আগমনের পর শপথের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
মন্ত্রিসভা
প্রধানমন্ত্রীর শপথের পর ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন।
পূর্ণমন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), সালাহউদ্দিন আহমদ, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, আফরোজা খানম, আবদুল আউয়াল মিন্টু, আরিফুল হক চৌধুরী, আসাদুল হাবিব দুলু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, কায়সার কামালসহ অন্যান্যরা।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইশরাক হোসেন, নুরুল হক নুর, জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ববি হাজ্জাজ, শামা ওবায়েদ ইসলামসহ ২৪ জন।
নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ
প্রায় আড়াই দশক পর ক্ষমতায় ফিরে বিএনপি সরকার অর্থনীতি, নির্বাচনোত্তর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক—এই তিন বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
