ঢাকা, ৩১ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেলেন না বিএনপির দুঃসময়ের কান্ডারি রিজভী, কুড়িগ্রামে হতাশা

সারাদেশ | কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।

(৫ মাস আগে) ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার, ৯:১৫ অপরাহ্ন

banglahour

নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হলেও তাতে কুড়িগ্রামের কোনো প্রতিনিধি স্থান পাননি। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় জেলাজুড়ে হতাশা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। জেলার রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের ভাষ্য—এটি কুড়িগ্রামের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-বঞ্চনার আরেকটি বহিঃপ্রকাশ।


দারিদ্র্যপ্রবণ জেলা হিসেবে পরিচিত কুড়িগ্রাম স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও ‘মঙ্গা’ ও কাঠামোগত বঞ্চনা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নদীশাসন ও কর্মসংস্থানে জেলার অবস্থান এখনও দেশের পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের কাতারেই। শিল্পকারখানা ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের অভাবে বেকারত্ব এখানে দীর্ঘদিনের সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।


দলের ক্রান্তিকালে নেতৃত্ব দেওয়া রুহুল কবীর রিজভী টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন—এমন জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম না থাকায় কুড়িগ্রামের মানুষের প্রত্যাশা ভেঙে পড়ে।
মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন সরকারের ৪৯ জন সদস্য শপথ নেন। এর মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী ২৫ জন এবং প্রতিমন্ত্রী ২৪ জন। নতুন মন্ত্রিসভার ৪০ জন সদস্যই এর আগে কখনও মন্ত্রিপরিষদে দায়িত্ব পালন করেননি।


চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন সংস্থার কুড়িগ্রাম সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল বেবু বলেন, “কুড়িগ্রাম আজও চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়ছে। চরাঞ্চলের সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নদীভাঙন ও বন্যা এই দারিদ্র্যকে আরও গভীর করেছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে কেবিনেটে একজন দরদী মন্ত্রীর প্রয়োজন ছিল। রিজভীকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে কুড়িগ্রামের জন্য তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারত।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান কুড়িগ্রামের মানুষের প্রত্যাশার বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন—এটাই এখন জেলার মানুষের আশা।


কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মির্জা নাসির উদ্দিন বলেন, “আমরা অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী। নিজেদের ভাগ্য গড়তে বারবার ব্যর্থ হয়েছি। ব্যর্থতার মাঝেও রিজভী ভাইকে নিয়ে মানুষের একটা আশা ছিল। সেই আশার আলোও নিভে গেল।”
কুড়িগ্রাম শহরের ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম বলেন, “রিজভী আহমেদ আমাদের কুড়িগ্রামের গর্ব। তিনি জেলার মানুষের আশার প্রদীপ। দেশের দুঃসময়ে বিএনপিকে পথ দেখিয়েছেন। মন্ত্রিসভায় তাঁর অনুপস্থিতি মানে কুড়িগ্রামবাসীকে আবারও অন্ধকারে রাখা।


কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবীর বলেন, “কুড়িগ্রাম বরাবরই উন্নয়ন-বঞ্চনার শিকার। নতুন বাংলাদেশের পথে এই জেলার মানুষ আর বঞ্চিতের তালিকায় থাকতে চায় না।”
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা বলেন, “রিজভী আহমেদ দলের কঠিন সময়ে সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর ত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।


জেলার সচেতন মহলের মতে, মন্ত্রিসভায় কুড়িগ্রামের প্রতিনিধিত্ব না থাকলে দারিদ্র্য, নদীভাঙন ও কর্মসংস্থানের মতো দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে কার্যকর অগ্রগতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখন জেলার মানুষের প্রশ্ন—এই বঞ্চনার অবসান কবে হবে?

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯