দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে কারাপ্রাচীরের অন্ধকার চিরে মুক্ত আলোয় ফিরলেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের এক সময়ের দাপুটে সাবেক সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে দিনাজপুর জেলা কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। তবে এই মুক্তি যেন বিষাদমাখা— নেতার ফেরার আনন্দকে ছাপিয়ে গেছে স্বজন হারানোর বেদনা।
দিনাজপুর জেলা কারাগারের জেলার ফরহাদ সরকার দবিরুল ইসলামের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার সময় তাঁকে শারীরিকভাবে ভীষণ দুর্বল দেখা যায়। দীর্ঘ কারাবাস ও বার্ধক্যের ভারে তিনি জীর্ণ হয়ে পড়েছেন।
পরিবারের দাবি, যথাযথ চিকিৎসার অভাবে কারাগারেই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। হাঁটাচলার শক্তিও প্রায় হারিয়েছেন। চোখে মুক্তির স্বস্তি থাকলেও শরীরজুড়ে অসুস্থতার ছাপ স্পষ্ট।
দবিরুল ইসলাম মুক্তি পেলেও এখনই ঘরে ফেরা হচ্ছে না তাঁর পুত্র, একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজনের। জমি দখল ও চাঁদাবাজির মামলায় বাবার সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া সুজন এখনও কারাগারে রয়েছেন। ছেলের মুক্তির অপেক্ষায় দিন গুনছেন দবিরুল।
একদিকে মুক্তির আনন্দ, অন্যদিকে প্রিয়জন হারানোর শোক— ঠাকুরগাঁও আজ যেন এক বৈপরীত্যের সাক্ষী।
দবিরুল ইসলামের মুক্তির দিনই দাফন সম্পন্ন হয় তাঁর ভাতিজা ও বড়বাড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আকরাম হোসেনের। মুক্তির মাত্র দুই দিন আগে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আকরাম। ফলে এলাকায় আনন্দের বদলে নেমে আসে শোকের ছায়া।
উল্লেখ্য, গত ৭ ফেব্রুয়ারি একই কারাগারে অসুস্থ হয়ে মারা যান ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রমেশচন্দ্র সেন। বর্তমানে রাজশাহী অঞ্চলের সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ থেকে শুরু করে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সাবেক মেয়র আনজুমান আরা বেগম বন্যাসহ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা-নেত্রী সেখানে বন্দি রয়েছেন।
এখন বাড়িতেই পরিবারের তত্ত্বাবধানে চলবে দবিরুল ইসলামের চিকিৎসা। তবে হিমালয়ের পাদদেশের এই জনপদে নেতার ফেরার স্বস্তি আর ভাতিজার মৃত্যুশোক মিলেমিশে তৈরি করেছে এক মেঘ-রোদ্দুরের দিন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
