ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নিজ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে পিতা মোস্তফা মোল্লা (৪২) কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত মোস্তফা মোল্লা ভাঙ্গা উপজেলার নাসিরাবাদ ইউনিয়নের বড়পাল্লা গ্রামের বাসিন্দা।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে মোস্তফা মোল্লা এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারীকে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করতেন। ওই দম্পতির দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি নিজের বড় মেয়েকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি ভুক্তভোগী তার মাকে জানালে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি। পরবর্তীতে মোস্তফা গা ঢাকা দিলেও এক মাস পর ফিরে এসে পুনরায় মেয়েকে ধারাবাহিকভাবে নির্যাতন করতে থাকেন।
২০২৫ সালের ২৯ মার্চ বিকেলে আবারও ধর্ষণের চেষ্টা চালালে ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মোস্তফাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এ ঘটনায় মেয়ের মামা মো. বাবুল আলী বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. সিরাজুল ইসলাম তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি মোস্তফা মোল্লা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে তাকে পুলিশ পাহারায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এই ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক এবং সামাজিক অবক্ষয়ের চরম বহিঃপ্রকাশ। এ রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি কড়া বার্তা পৌঁছেছে।”

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
