ঢাকার উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। দিনদুপুরে ছিনতাই, লুটপাট ও বেপরোয়া চাঁদাবাজির ঘটনায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে কেরানীগঞ্জের বর্তমান অবস্থা ‘ভয়াবহ’ উল্লেখ করে অপরাধীদের তালিকা প্রকাশ এবং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি নেত্রী অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী।
মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জ উপজেলা মিলনায়তনে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
‘হাত বদলাচ্ছে চাঁদাবাজি’
সভায় নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, কেরানীগঞ্জে অপরাধের ধরন পরিবর্তন হয়নি, বরং অপরাধীদের মুখ পরিবর্তন হয়েছে। তার ভাষায়, “চাঁদাবাজির টাকা এখন এক হাত থেকে অন্য হাতে যাচ্ছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, ছিনতাই ও লুটপাট বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রকাশের দাবি
তিনি দাবি জানান, কেরানীগঞ্জে প্রকাশ্যে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের নাম-ঠিকানাসহ তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন—
অপরাধী প্রভাবশালী বা বড় রাজনৈতিক দলের নেতা হলেও ছাড় দেওয়া যাবে না;
পুলিশ প্রশাসনকে অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে হবে;
ঝিলমিল এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা মাদক ও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে হবে।
বুড়িগঙ্গা ও নাগরিক দুর্ভোগ
আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি পরিবেশ ও নাগরিক সমস্যার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নিপুণ রায়। তিনি বলেন, প্রতিদিন বুড়িগঙ্গা নদীতে কেমিক্যাল ও বিষাক্ত বর্জ্য ফেলার কারণে নদী মৃতপ্রায় হয়ে পড়ছে। নদী রক্ষায় সরকার ও জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া কদমতলী–কোনাখোলা সড়কের তীব্র যানজট, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল গুদাম, অবৈধ গ্যাস সংযোগ এবং অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে কেরানীগঞ্জের উন্নয়নের বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বাস্তবায়ন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, নিয়মিত চাঁদাবাজির আতঙ্কে থাকলেও প্রভাবশালী মহলের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পান না। নিপুণ রায় চৌধুরীর বক্তব্যকে স্বাগত জানালেও স্থানীয়দের প্রশ্ন—এই দাবিগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা থেকে বেরিয়ে কেরানীগঞ্জকে বাসযোগ্য এলাকায় পরিণত করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক কঠোর পদক্ষেপ জরুরি।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
