ফরিদপুর শহরে রাজু ওরফে বাটুল রাজু (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২ মার্চ ২০২৬) রাত ১০টার দিকে শহরের স্টেশন বাজার এলাকায় তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত রাজু শহরের ২ নম্বর কুটিবাড়ী মহল্লার স্টেশন বাজার মুসলিম কলোনি এলাকার বাসিন্দা বাবলু কসাইয়ের ছেলে। তিনি বিবাহিত এবং এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, এলাকার কথিত মাদক ব্যবসায়ী শিল্পী বেগমের জামাতা হৃদয় শেখ ও তার চার-পাঁচজন সহযোগী চাপাতি ও রামদাসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে রাজুর ওপর হামলা চালায়। হামলায় রাজুর দুই পা ও ডান হাতের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তাকে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা।
পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় রাজুকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের মা ছবি বেগম জানান, কিছুদিন আগে স্টেশন বাজার সংলগ্ন লাশ কাটা বস্তি এলাকায় সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে শিল্পী বেগমকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ আটক করে। এ ঘটনায় রাজু জড়িত—এমন সন্দেহে হৃদয় শেখ ও তার সহযোগীরা এ হামলা চালিয়ে থাকতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।
নিহতের ছেলে নীরব অভিযোগ করে বলেন, হামলাকারীরা প্রথমে তার বাবার চোখ-মুখে হলুদের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। এতে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয় এবং পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়।
নিহতের বাবা বাবলু কসাই বলেন, “আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। বিচার না হলে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বাড়তেই থাকবে।”
পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হৃদয় শেখ নামের যে ব্যক্তির নাম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে শোনা যাচ্ছে, তিনি একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। এ পর্যন্ত তিনজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
