ফরিদপুর সদর উপজেলায় ইকবাল শেখ (৪৮) নামে এক ব্যক্তির গলা ও দুই পায়ের রগ কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় পালিয়ে যাওয়ার সময় জিয়া মন্ডল (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে আটক করে গণধোলাই দেন। বর্তমানে তাকে পুলিশ হেফাজতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার রাত ৮টার দিকে ফরিদপুর সদরের চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের আফজাল মন্ডলের হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ইকবাল শেখ একই ইউনিয়নের ওয়েজউদ্দীন ফকিরের ডাঙ্গী গ্রামের মৃত রশিদ শেখের ছেলে। আটক জিয়া মন্ডল পাশের আলিমউদ্দিনের ডাঙ্গী গ্রামের ওয়াহিদ মন্ডলের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জিয়া মন্ডল এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে পরিচিত। এ বিষয় নিয়ে ইকবাল শেখের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। কয়েকদিন ধরেই তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, আফজাল মন্ডলের হাটের অদূরে একটি বাগান থেকে গোঙানির শব্দ শুনে কয়েকজন ছুটে গিয়ে দেখেন, ইকবাল শেখের গলা ও দুই পায়ের রগ কাটা। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে মোটরসাইকেলযোগে পালানোর চেষ্টা করেন জিয়া মন্ডলসহ দুই ব্যক্তি।
স্থানীয়দের ধাওয়ায় দ্রুত পালাতে গিয়ে জিয়া মন্ডল মোটরসাইকেলসহ সড়কের পাশে পড়ে গিয়ে পা ভেঙে ফেলেন। পরে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দেয় এবং অপর ব্যক্তি পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত ইকবাল শেখকে মুমূর্ষু অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখান থেকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত ইকবালের ভাই রফিক শেখ বৃহস্পতিবার বিকেলে জানান, চিকিৎসকদের মতে ইকবালের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং তার অস্ত্রোপচার চলছে।
ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
