ঢাকা, ১ আগস্ট ২০২৬, শনিবার, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

শিরোনাম: কটিয়াদীতে স্কুল শিক্ষার্থী স্মৃতির মৃত্যু নিয়ে রহস্য, পরিবারের দাবি হত্যা

সারাদেশ | মিয়া মোহাম্মদ ছিদ্দিক কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

(৪ মাস আগে) ৮ মার্চ ২০২৬, রবিবার, ১:৩৫ অপরাহ্ন

banglahour

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে স্কুল শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার স্মৃতি (১৬)-র মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ এটিকে আত্মহত্যা বলছেন, আবার পরিবারের দাবি এটি পরিকল্পিত হত্যা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন ও হত্যামামলা দায়েরের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।


পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটিকে অপমৃত্যু দেখিয়ে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন কিংবা অভিযুক্তদের আটক না করায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা।
রোববার কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের পূর্বচর পাড়াতলা এলাকায় নিজ বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মৃত স্মৃতির স্বজনরা।


পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লোহাজুরী ইউনিয়নের পূর্বচর পাড়াতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং একই এলাকার সোহেল মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার স্মৃতি (১৬) ও বাবুল মিয়ার ছেলে আকরাম হোসেন (১৯) একই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন। সহপাঠী হওয়ার সুবাদে প্রায় এক বছর আগে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি নিয়ে স্কুলের শিক্ষকরা কয়েকবার তাদের বোঝানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি।
গত বছরের ৩ জুন বন্ধু আকরামের ডাকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় স্মৃতি। পরে তার পরিবার থানায় একটি অভিযোগ করে।

পরবর্তীতে তারা নিজেরাই বিয়ে করে আকরামের বাড়িতে বসবাস শুরু করে। তবে স্মৃতির পরিবার বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। ছোটবেলা থেকেই স্মৃতি তার দাদুর বাড়িতে থাকত। তার বাবা-মায়ের অনেক আগেই বিচ্ছেদ হয়েছে এবং তারা আলাদা স্থানে বসবাস করেন।
সর্বশেষ গত ৪ মার্চ ভোরে আকরামের বাড়ি থেকে স্মৃতির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফন করা হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী আকরামসহ তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে নেই বলে জানা গেছে।


লোহাজুরী পূর্বচর পাড়াতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ এম মহিবুর রহমান বলেন, “তারা দুজনই আমাদের স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল। তাদের মধ্যে আগে থেকেই সম্পর্ক ছিল। আমরা শিক্ষকরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। তবে স্মৃতির মৃত্যুকে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।


সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে স্মৃতির ফুফু তামজিমা আক্তার বলেন, “এই মৃত্যুকে আমরা স্বাভাবিক মনে করছি না। প্রায় আট মাস আগে আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভাতিজিকে তুলে নিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে করা হয়। তখন আমরা থানায় অভিযোগ দিয়েছিলাম। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। ঝুলন্ত লাশ দেখে আত্মহত্যার মতো কোনো আলামত পাওয়া যায়নি, শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। আমরা হত্যা মামলা করতে গেলেও মামলা নেওয়া হয়নি। লাশ উদ্ধারের সময় একটি স্বাক্ষর নিয়ে এটিকে অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি করছি।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্মৃতির চাচা মতিউর রহমান, দাদী হোসনে আরা বেগম, আত্মীয় তারিকুর রহমান মিটনসহ পরিবারের সদস্যরা।


অভিযুক্ত স্বামী আকরাম হোসেন ও তার পরিবারের বক্তব্য নিতে তাদের বাড়িতে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে কটিয়াদী মডে

ল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, “থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলা নেওয়া হচ্ছে না—এ অভিযোগ সঠিক নয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯