ঝালকাঠির নলছিটিতে কবরস্থানের মাটি ভরাট প্রকল্পে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর সেই টাকা ফেরত দিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আওলাদ হোসেন। তবে ঘটনাটি নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১১ মার্চ) সকালে অভিযোগকারী নলছিটি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ অলিউল ইসলামের কাছে ঘুষ হিসেবে নেওয়া ৯ হাজার টাকা ফেরত দেন তিনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নলছিটি পৌরসভার মল্লিকপুর সরকারি কবরস্থানের জন্য মাটি ভরাটের একটি টিআর প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার কাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে ওই কাজের বিপরীতে অতিরিক্ত খরচের কথা বলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওলাদ হোসেন ৯ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন অলিউল ইসলাম। অভিযোগ করার পরদিনই পিআইও নিজের ভুল স্বীকার করে টাকা ফেরত দেন বলে জানান অভিযোগকারী।
এদিকে কবরস্থান প্রকল্পে ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, আওলাদ হোসেন এর আগে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। সে সময় স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে বিভিন্ন টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল।
স্থানীয়দের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করেই সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে এবং ওই অর্থ দিয়ে তিনি নামে-বেনামে সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওলাদ হোসেনের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
