খুলনার লবণচরা এলাকায় চার বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল মাওয়া হত্যা মামলার মূল আসামি তোতা মিয়াকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), খুলনা।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে লবণচরা থানার সাচিবুনিয়া এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে তোতা মিয়া (৫০) শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে আইসক্রিম খাওয়ানোর কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও শিশুটি ফিরে না আসায় পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
পরে শিশুটির মা আফরোজা আক্তার রুমি তোতা মিয়ার মোবাইলে যোগাযোগ করলে সে জানায়, শিশুকে সাচিবুনিয়া সুইচগেট এলাকায় নিয়ে গেছে। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাদের খুঁজে না পেয়ে পুনরায় ফোন করলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা শাহ জালাল লবণচরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরদিন (২৪ মার্চ) রাত দেড়টার দিকে আসামি তোতা মিয়া ইমোতে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে জানায়, “হরিণটানা গেটের পাশে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যাবে।
খবর পেয়ে পুলিশ ভোরে হরিণটানা গেটের বিপরীত পাশে একটি বাগান থেকে শিশুটির মরদেহ, জুতা এবং হত্যায় ব্যবহৃত রশি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় শাহ জালাল বাদী হয়ে তোতা মিয়াকে প্রধান আসামি করে লবণচরা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পরবর্তীতে পিবিআই খুলনা জেলা তদন্তভার গ্রহণ করে।
পিবিআই প্রধান মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধানে এবং পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপার রেশমা শারমিনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর ২৬ মার্চ ভোররাতে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার গোসাইরগাঁও এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যার দায় স্বীকার করেছে। সে জানায়, পারিবারিক বিরোধ ও প্রতিশোধের মনোভাব থেকে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, তোতা মিয়া পূর্বে ১৯৯৭ সালে তার প্রথম স্ত্রীকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ কারাভোগ শেষে ২০২০ সালে মুক্তি পায়।
গ্রেফতারের পর আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
