খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়ন যুবদল নেতা মুরাদ খাঁ (৪২) হত্যা মামলার পলাতক আসামি বাকা মাসুদকে (৩৪) গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬। বাঁকা মাসুদ কে চার দিনের রিমান্ডে এনেছে পুলিশ।
হত্যা কান্ডে আবুবক্কার নামে আরো এক জনের সংশ্লিষ্ট তার কথা জানালেন পুলিশ।
গ্রেফতার: সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) বিকেল ৪টার দিকে মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থানার ঝামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা থেকে ভাটিয়াপাড়া Rab র্যাবের যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ।
যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করে Rab -6।
আসামির পরিচয়: বাকা মাসুদ দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি এলাকার বাসিন্দা।
ঘটনা: গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে দিঘলিয়ার সেনহাটি মিয়া পাড়া মসজিদের কাছে যুবদল নেতা মুরাদ খাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
মামলা: এ ঘটনায় মুরাদের স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়া বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে দিঘলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন মোড় : নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত করে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ
তথ্য সংগ্রহ করেছে বলে এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তকারী কর্মকর্তাএস আই লিটন জানান।
তিনি জানান, যুবদল নেতা মুরাদ হত্যার প্রধান আসামী সাজ্জাদ হোসেন কে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাস্টার মাইন্ড আবুবক্কার। আবুবক্কার হত্যার ঘটনার পর আসামী সাজ্জাদ হোসেন কে আবার মোটরসাইকেল যোগে নিরাপদ ভাবে পালাতে সহায়তা করে। স্থানীয়রা জানায় আবুবক্কার পাশে থেকে হত্যার বিষয়টি ঘটনা স্থলে থেকে নিয়ন্ত্রণ করে। তানা হলে হত্যা ঘটনার আগে প্রধান আসামী কে নিয়ে আসা ও হত্যা কান্ডের পর তাকে নিরাপদে পৌছেদেয়ার কাজ ঠান্ডা মাথায় সম্পন্ন করেছে সে। আবুবক্কার পলাতক বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কে এই আবুবক্কার : আবুবক্কার সেনহাটী শিববাড়ী মন্দিরের মাঠে ইটবালীর ব্যবসা করে। মূলত সে সন্ত্রাসী গ্রুপের মাস্টার মাইন্ড ও অর্থদাতা। সে দিঘলিয়ার ভুমি দস্যুখ্যাত হায়দার আলী মোড়লের ডানহাত হিসাবে কাজ করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানায় ইট বালু ব্যবসার অন্তরালে নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত।
দিঘলিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে পত্রপত্রিকা অনলাইনে ব্যাপক সংবাদ প্রচার হয়েছে। তার অর্জিত অবৈধ অর্থ দিয়ে প্রভাবশালী মহলকে ম্যনেজ করে চলার কারনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদের ফাঁকীদিয়ে চলছে। তারা জানায় আল্লাহ ছাড় দেয় কিন্তু ছেড়ে দেয় না। এ হায়দার মোড়লের ছত্র ছায়ায় থাকায় বক্কারের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অপকর্ম চাপা ছিল। সঠিক ও গভীর তদন্ত করলে বিষয়গুলো বেরিয়ে আসবে বলে তারা মনে করেন।
অন্যান্য আসামিদের অবস্থা: এই মামলার প্রধান আসামি সাজ্জাদ হোসেনকে এর আগে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অপর কয়েকজন আসামিকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল। র্যাব জানিয়েছে, বাকা মাসুদকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাকে দীঘলিয়া থানা পুলিশ গতকাল চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে এসেছে। তার কাছ থেকেই হত্যা মামলার আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাবে বলে পুলিশ জানায়। গভীর তদন্ত করলে এ হত্যার নেপথ্যের নাটের গুরুদের বের করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সাজ্জাদের বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও মাদক কারবারের অভিযোগ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায়, ব্যবসার নামে টাকা আত্মসাৎ এবং স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খান মুরাদ হত্যার ঘটনায় প্রকৃত খুনি মাস্টারমাইন্ড ও নেপথ্যের নাটের গুরুদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন নিহতের স্ত্রী মামলার বাদী জান্নাতুল মাওয়া।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
