গাজীপুরে এক নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন আসমা আক্তার (৫০) নামের এক নারী। তবে ঘটনার ভয়াবহতা কেবল হত্যায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; অপরাধ ঢাকতে নিজের ঘরকেই ‘ক্রাইম থ্রিলার’ সিনেমার সেট বানিয়ে ফেলেছিলেন খোদ পুত্রবধূ। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, টাকা ও গয়নার লোভে শাশুড়িকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ডাকাতির নাটক সাজান পুত্রবধূ আরিফা আক্তার।
ঘটনার সূত্রপাত ও সুনিপুণ অভিনয়
প্রাথমিকভাবে পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন দৃশ্যপট ছিল অনেকটা এরকম: ঘরের আসবাবপত্র ছড়ানো-ছিটানো, সিন্দুক ভাঙা এবং পুত্রবধূ আরিফা আক্তার হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন। দেখে মনে হওয়ার কথা—একদল ডাকাত ঘরে ঢুকে লুটপাট চালিয়ে গৃহকর্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। কিন্তু পুলিশের অভিজ্ঞ চোখে কিছু অসংগতি ধরা পড়ে, যা দ্রুতই মোড় ঘুরিয়ে দেয় তদন্তের।
যেভাবে সংঘটিত হয় হত্যাকাণ্ড
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। অভিযুক্তরা হলেন:
* **আরিফা আক্তার:** নিহতের পুত্রবধূ ও মূল পরিকল্পনাকারী।
* **উজ্জ্বল ও শাহনাজ বেগম:** হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত সহযোগী।
**ঘটনার বিবরণ:**
১. প্রথমে শাশুড়ি আসমা আক্তারকে কৌশলে **ঘুমের ওষুধ** খাইয়ে নিস্তেজ করা হয়।
২. এরপর গলায় গামছা পেঁচিয়ে **শ্বাসরোধ করে** তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
৩. হত্যাকাণ্ড শেষে লুটতরাজ দেখানোর জন্য ঘর এলোমেলো করা হয়।
৪. সবশেষে নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে আরিফা আক্তার নিজেকেই বেঁধে ‘অচেতন’ হওয়ার ভান করে পড়ে থাকেন।
চার বছরের শিশুর সামনেই চরম নৃশংসতা
এই ঘটনার সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিক হলো, যখন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও ষড়যন্ত্র চলছিল, তখন একই ঘরে উপস্থিত ছিল আরিফার **চার বছর বয়সী শিশু সন্তান**। যে মায়ের কাছে শিশুর সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা, সেই মায়ের এমন রূপ সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের এক চরম চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।
উদ্ধার ও আইনি কার্যক্রম
গ্রেপ্তারের পর আসামিদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত:
* স্বর্ণালংকার
* নগদ টাকা
* একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের মধ্যে দুইজন আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
