পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব সাংগ্রাই। চারদিকে এখন উৎসবের আমেজ, পাহাড়জুড়ে সাজ সাজ রব।
ঐতিহ্যবাহী জলকেলি উৎসবে মেতে উঠেছে মারমা তরুণ-তরুণীরা। বিগত বছরের পাপাচার ও গ্লানি ধুয়ে-মুছে নতুন বছরকে বরণ করতে তারা একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে আনন্দে মেতে ওঠে। এ উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ে ভিড় জমিয়েছে হাজারো পাহাড়ি ও বাঙালি দর্শনার্থী।
পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে মারমাসহ বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠী নানা ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে ব্যস্ত সময় পার করছে। ১৩ এপ্রিল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে সাংগ্রাই উৎসবের সূচনা হয়। পরদিন ১৪ এপ্রিল শহরের উজানীপাড়ায় সাঙ্গু নদীর চরে বৌদ্ধমূর্তি স্নানের মাধ্যমে শুরু হয় মূল ধর্মীয় অনুষ্ঠান। বৌদ্ধ বিহারগুলোতে চলছে পূজা-অর্চনা ও বিশেষ প্রার্থনা।
১৫ এপ্রিল রাজার মাঠে অনুষ্ঠিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত জলকেলি উৎসব। এ সময় চলে মারমাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিবেশনা—নৃত্য, পালাগানসহ নানা আয়োজন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সাচিংপ্রু জেরী এমপি। এছাড়া জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস, পুলিশ সুপার আবদুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সপ্তাহব্যাপী এ উৎসবে রয়েছে সমবেত প্রার্থনা, দুই দিনব্যাপী জলকেলি, পিঠা তৈরি, বৌদ্ধমূর্তি স্নান, হাজারো প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, বয়স্ক পূজা এবং ঐতিহ্যবাহী নৃত্য-গানসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন।
জলকেলি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ১৫ ও ১৬ এপ্রিল বিকাল ৪টায় একই স্থানে অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়েই শেষ হবে পাহাড়ের প্রাণের উৎসব সাংগ্রাই।
মারমা সম্প্রদায় বছরের শেষ দিন এবং নতুন বছরের প্রথম তিন দিন ধরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে যুগের পর যুগ ধরে এই সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন করে আসছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
