সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় একটি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ৬টি পরিবারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা বাড়িঘর ছেড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
শনিবার (২৩ মে) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন উপজেলার বুরুঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম সিরাজনগর গ্রামের বাসিন্দা মামুন মিয়ার স্ত্রী রেহেনা বেগম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রতিবেশী সৈয়দ আব্দুর রশিদ ওরফে আখলিছ মিয়ার সঙ্গে পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে আসেন গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আতিক মিয়া। সংঘর্ষ চলাকালে তিনি ছুরিকাঘাতে আহত হন এবং পরে হাসপাতালে মারা যান।
রেহেনা বেগম দাবি করেন, কে বা কারা আতিক মিয়াকে ছুরিকাঘাত করেছে তা স্পষ্ট নয়। তবে প্রতিপক্ষ তাদের পরিবারের ওপর হত্যার দায় চাপিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় গত ৩ জানুয়ারি ওসমানীনগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে তাদের পরিবারের নারী, পুরুষ এমনকি স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও শিশুদেরও আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকে গ্রেফতার আতঙ্কে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে থাকতে বাধ্য হন। এই সুযোগে গত ৭ মার্চ সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
সংবাদ সম্মেলনে রেহেনা বেগম অভিযোগ করেন, সৈয়দ আব্দুর রশিদ প্রকাশ আখলিছ মিয়া, সৈয়দ শাহিনুর রশিদ, সৈয়দ শাহেদুর রশিদ, ফুলজার মিয়া, ফয়ছল মিয়া, কাওছার মিয়া, রায়হান মিয়া, ফরহান মিয়া, আজিম মিয়া, ফারুক মিয়া, আব্দুছ ছালাম, রুয়েল মিয়া, সুহেল মিয়া, তারেক মিয়া, রেসন মিয়া, দিদার মিয়া, নোমান মিয়া ও লুকমান মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জন হামলায় অংশ নেয়। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি বিভাগীয় কমিশনারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতেও মামলা করা হয়েছে।
রেহেনা বেগম বলেন, হামলার পর থেকে সন্তানদের লেখাপড়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আসামিদের ভয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না। আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার্থী মুরশিদা বেগম ও সৈয়দা ছামিয়া বেগমসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, বসতবাড়িতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ এবং শিশুদের লেখাপড়ার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
