কোথাও গাছের মগডালে, আবার কোথাও রাস্তার পাশে উড়ছে ভিনদেশি পতাকা। সাত সমুদ্র তেরো নদী পাড়ি দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জেও। পছন্দের দলের পতাকা টাঙিয়ে সমর্থন জানাচ্ছেন অনেকে। আবার কেউ প্রিয় দলের জার্সি পরে প্রকাশ করছেন ভালোবাসা। এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামে। ফুটবল উন্মাদনা এখন সর্বত্র।
এদিকে এই আমেজকে কেন্দ্র করে পতাকা ও জার্সি বিক্রির হিড়িক পড়েছে। দোকানদার থেকে শুরু করে ফেরিওয়ালারাও জমজমাট ব্যবসা করছেন।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি এলাকায় কমবেশি ভিনদেশি পতাকা উড়ছে। সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকা। এছাড়া ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ডের সমর্থকরাও নিজেদের দলের পতাকা টাঙিয়েছেন। রাস্তার মোড়ে যুবসমাজের উদ্যোগে টাঙানো হয়েছে বিভিন্ন দেশের পতাকা। কোথাও গাছের মগডালে, আবার কোথাও বাঁশের চূড়ায় উড়ছে এসব পতাকা। অনেক স্থানে বাংলাদেশের পতাকার নিচে প্রিয় দলের পতাকা উড়তে দেখা যায়। বাংলাদেশ সংবাদ
কিশোর থেকে যুবক সব বয়সী মানুষকেই জার্সি পরে চলাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। গ্রামের চায়ের দোকানগুলোতে এখন আলোচনার প্রধান বিষয়, কে জিতবে এবারের বিশ্বকাপ। এ নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক ও নানা বিশ্লেষণ। তবে আগের তুলনায় ভিনদেশি পতাকা টাঙানোর প্রবণতা কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
জেলার ইটনা উপজেলা থেকে ছয় সদস্যের একটি ফেরিওয়ালা দল এসেছে কটিয়াদী বাজারে। তারা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে বাংলাদেশ, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকার পাশাপাশি স্টিকার বিক্রি করছেন।
দলনেতা হারুন মিয়া বলেন, “এটি আমাদের অস্থায়ী পেশা। হাওর এলাকায় এখন বর্ষার পানি আসতে শুরু করেছে। তাই উজান এলাকায় এসে ফেরিওয়ালা হিসেবে পতাকা বিক্রি করছি। সব খরচ বাদ দিয়ে জনপ্রতি এক হাজার টাকার বেশি লাভ হচ্ছে। বিক্রিও ভালো। কখনো বাজারে, কখনো গ্রামে গিয়ে বিক্রি করছি।
বনগ্রাম ইউনিয়নের ফুটবলপ্রেমী আহমেদ শরিফ বলেন, “কিছুদিন ধরেই আমাদের এলাকায় বিশ্বকাপের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে পতাকা টাঙানো হয়েছে। একটি উপলক্ষকে কেন্দ্র করে সবাই নিজেদের পছন্দের দলকে নিয়ে নানা আয়োজন করছে। এটিকে এক ধরনের বিনোদন বলা যায়।”
পং মসূয়া গ্রামের বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম মবিন বলেন, “বিশ্বকাপ মানেই সব বয়সী মানুষের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ। ফুটবলের প্রতি মানুষের প্রবল আকর্ষণ থেকেই পতাকা ওড়ানো, জার্সি পরাসহ নানা আয়োজন করা হয়। তবে আগের তুলনায় ভিনদেশি পতাকা উড়ানোর প্রবণতা কিছুটা কমেছে বলে মনে হচ্ছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
