ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা থেকে নিখোঁজ হওয়া চার স্কুল ছাত্রীকে সিলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বুলবুল ইসলাম। বুধবার (১লা জুলাই) শেষ বিকেল সিলেটের একটি বাস কাউন্টার থেকে তাদেরকে উদ্ধার করে পুলিশ। তারা সিলেটের গোয়াইনঘাট যাওয়ার জন্য সেখানে অপেক্ষা করছিল বলে জানা গেছে।
উদ্ধার হওয়া ছাত্রীরা হলো বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োাল ইউনিয়নের সাবাজপুর গ্রামের মানিক চন্দ্রের মেয়ে শ্রীমতি খুশি (১৭), একই গ্রামের বাংঠু দেবনাথের মেয়ে মলিকা (১৭), রমেশ চন্দ্র দেবনাথের মেয়ে ঋতু দেবনাথ (১৬) এবং আকালু দেবনাথের মেয়ে সুজতি রানী দেবনাথ (১৪)। এদের মধ্যে খুশি, মলিকা ও ঋতু সাবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণি এবং সুজতি একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।
পুলিশ জানান, গত মঙ্গলবার রাত থেকেই পুলিশ নিখোঁজ ছাত্রীদের সন্ধানে পুলিশ কাজ করছিল। নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের ফোনের কল লিস্ট থেকে বোঝা গেছে যে তারা ঠাকুরগাঁও শহরের একটি ছেলের সাথে নিয়মিত কথা বলতো। কিন্তু সেই ছেলেটি থাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তবে এটি মূলত পাচারকারী নাকি অন্য কিছু এ নিয়ে তদন্ত চলছে। গত মঙ্গলবার সকালে তারা একসঙ্গে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। কোনো সন্ধান না পেয়ে ওই রাতেই পরিবারের পক্ষ থেকে বালিয়াডাঙ্গী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে স্কুলছাত্রীর পরিবার।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিখোঁজ হওয়ার পর তারা প্রথমে ঢাকায় যায়। এরপরে সেখান থেকে সিলেটে। পরে সিলেটের একটি বাস কাউন্টারে তাদের সনাক্ত করা হয়। বর্তমানে তাদের সংশ্লিষ্ট থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে। খুব শীঘ্রই তাদেরকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, প্রতিদিনের মতো সকালে একসাথে তারা প্রাইভেটের উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে বের হয়। কিন্তু দুপুর হলেও বাড়ীতে না ফিরলে অনেক খোঁজাখুঁজি করা হয়। তাদের কোন খোঁজ না পেয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানায় নিখোঁজ ডাইরী করা হয়। পরবর্তীতে বুধবার (১ লা জুলাই) শেষ বিকেলে পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে জানতে পারি যে তারা সিলেটে একটি বাস কাউন্টারে আছে। তারা কেন এবং কিভাবে সেখানে গেল আমরা জানি না। এর পিছনে কোন পাচারকারী চক্র থাকলে দৃষ্টান্তমূলক শাশিÍর দাবি জানান তারা।
বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বুলবুল ইসলাম এটি মূলত পাচারকারী নাকি অন্য কিছু এ নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে ঘটনার বিস্তারিত বলা যাবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
