ঢাকা, ৮ আগস্ট ২০২৬, শনিবার, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

আগামীকাল আদিবাসী দিবস, আদিবাসী হিসাবে পূর্ণ সাংবিধানিক স্বীকৃতি নেই, রয়েছে বির্তক, ক্ষুব্দ পাহাড়িরা

সারাদেশ | মিল্টন বাহাদুর। রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি।

(১ ঘন্টা আগে) ৮ আগস্ট ২০২৬, শনিবার, ৭:৩৫ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৭:৩৫ অপরাহ্ন

banglahour


আগামীকাল আর্ন্তজাতিক আদিবাসী দিবস। পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দাবি-তাদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া। তবে এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত স্বীকৃতি না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে। তাদের অভিযোগ, স্বীকৃতির অভাবে নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ভূমির অধিকার রক্ষার বিষয়গুলোও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।


১৯৯৪ সালে জাতিসংঘের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পৃথিবীতে ১৯৯৫ সাল থেকে ৯ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালন করে আসছে বিশ্বের প্রায় ৩০ কোটি আদিবাসী। ১৯৯২ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের উন্নয়ন ও সংরক্ষণ উপকমিশনের কর্মকর্তারা তাদের প্রথম সভায় আদিবাসী দিবস পালনের জন্য ৯ আগস্টকে বেছে নেয়। আদিবাসী জনগণের মানবাধিকার, পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষা ও সংস্কৃতিসম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সুদৃঢ় করা ও গণসচেতনতা সৃষ্টি করাই বিশ্ব আদিবাসী দশক, বর্ষ ও দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য।


আদিবাসী দিবস উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইন্টুমনি তালুকদার বলেন, ১৯৯৭ সনের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চুক্তি হলেও এখনো তা পুরো বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে পাওয়া যায়নি আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি। বর্তমান আইনি কাঠামো কিংবা সরকারি নথিতে তারা ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ বা ‘উপজাতি’ হিসেবেই আখ্যায়িত করায় তারা ক্ষুব্দ। পাহাড়ের অধিবাসীদের দীর্ঘদিনের মূল দাবি-সংবিধান ও রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের 'আদিবাসী' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। তাই আদিবাসী ইস্যুকে নিয়ে বর্তমান সরকারকে এই সমস্যা নিরসন এগিয়ে আসতে হবে।


এব্যাপারে আদিবাসি ফোরাম, রাঙ্গামাটি জেলা কমিটি সাংগঠনিক সম্পাদক, ধঞ্জজয় তঞ্চঙ্গা বলেন, নিজেদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি দীর্ঘদিনের হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। তাই আদিবাসী ইস্যুকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে নিয়ে নিজেদের আত্মপরিচয়সহ আদিবাসীদের চাওয়া পাওয়া ব্যাপারে কাজ করছে আদিবাসী ফোরাম।


অন্যদিকে আদিবাসী শব্দটির অর্থের ব্যাপারে নিজস্ব মতামত তুলে ধরে নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের 'আদিবাসী' পরিচয় মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বাঙ্গালী নেতারা বলেন, বাংলাদেশে কোন আদিবাসী নেই। মিয়ানমারেও কোন আদিবাসী নেই।

ভারতেও কোন আদিাবাসী নেই। বাংলাদেশে আদিবাসী বলে কোন স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। এক সময় তারা পাহাড়ী হিসেবে পরিচিত ছিলো, ৯৭ সালে শান্তিচুক্তির পরে তারা হয়েছে উপজাতি, উপজাতি হয়ে চুক্তি করার পরেও তারা সরকারের কাছে স্বীকৃতি আদায় করেছে তারা ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্টি। এখন এসে তারা আবার আদিবাসী দাবী করছে। আসলে মুলত আমি যেতা বলবো, যাদের অসিত্বের কোন সঠিক ইতিহাস নাই। তারাই তাদের সম্প্রদায়ের বার বার নাম পরিবর্তন করে। একবার পাহাড়ী একবার উপজাতি একবার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি একবার আদিবাসী। সাবেক সরকারের আমলেও এই বিষয়কগুলো উত্থাপিত হয়েছিলো তারাও বলেছিলো বাংলাদেশে কোন আদিবাসী নেই।

বাঙ্গালীরাই মুলক এই অঞ্চলের আদিবাসী। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তিনিও রেইবো নেশনের ঘোষণা দিয়েছেন আমরা সবাই বাংলাদেশী, সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। সুতরাং এখানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির সম্প্রদায় যারা রয়েছে তাদের তারা আলাদা কৃষ্টি-কালচার, সভ্যতা, শিক্ষা নিয়ে তারা থাকবে। কিন্তু তারা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টি হিসেবে সংবিধানে স্বীকৃতি প্রাপ্ত। তাই আদিবাসী বলার কোন সুযোগ এখানে নেই। সুতরাং বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা পার্বত্য অঞ্চলকে পূর্ব তিমুর, দক্ষিণ সুদানের মতো আলাদা রাষ্ট যারা বানাতে চাই, তারা এখানে বিভিন্ন ভাবে টাকা-পয়সা দিয়ে ষড়যন্ত্র করে একটা গোষ্টিকে লেলিয়ে দিয়েছে, হয় জুলল্যান্ড হোক, না হয় আলাদা স্বাধীন রাষ্ট হোক, না হলে আদিবাসী স্বীকৃতি হোক, যে কোন না কোন ভাবে তারা বিছিন্ন হয়ে যেতে পারে তা হলে তারা উদ্দেশ্যে হাসিল করতে পারবে। আলাদা একটা স্বাধীন রাষ্ট করে বাংলাদেশ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিছিন্ন করতে পারবে। সুতরাং এই সুযোগ কোন ভাবে দেয়া যাবে না। সরকার এই ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন রয়েছে, আমরাও সজাগ রয়েছি। সুতরাং আমরা সবাই বাংলাদেশী, বাংলাদেশে নাই কোন আদিবাসী।


প্রকৃতি আর মানুষ যেখানে মিলেমিশে একাকার, সেখানে পরিচয়ের এই সংকট কাটিয়ে কবে মিলবে পূর্ণ সাংবিধানিক মর্যাদা-এখনো সেই উত্তর খুঁজে ফিরছেন ক্ষুব্ধ পাহাড়ি জনগোষ্ঠী। তাই আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়ে সরকার পাহাড়ী জনগোষ্ঠির আত্মপরিচয়ের অধিকার ফিরিয়ে দেবে এমন প্রত্যাশা পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি মানুষের।
 

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯