সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো আগামী রবিবার কিশোরগঞ্জ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দিনভর ব্যস্ত কর্মসূচি নিয়ে তার এই সফর ঘিরে পুরো জেলায় এখন উৎসবের আমেজ। প্রশাসনের প্রস্তুতির পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান থেকে শুরু করে মৎস্য খাতের নানা কর্মসূচি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে কিশোরগঞ্জবাসীর প্রত্যাশাও অনেক।
রবিবার সড়কপথে কিশোরগঞ্জে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার প্রধানের আগমন ঘিরে কিশোরগঞ্জ জুড়ে এখন সাজ সাজ রব। মাঠ ও মঞ্চ প্রস্তুত, চলছে সাজসজ্জার কাজ। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে ব্যস্ত প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা। কর্মসূচির স্থানগুলোতে দফায় দফায় চলছে পরিদর্শন ও সমন্বয়। রাজনৈতিক অঙ্গনেও এখন প্রাণচাঞ্চল্য।
রবিবার দিনের শুরুতেই পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই এলাকায় পোনা বিতরণ এবং স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি। এরপর কটিয়াদী কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। এরপর কর্মসূচিতে থাকছে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানও। সেখানে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
একই স্থানে ছাত্রদলের আয়োজনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন তিনি। সফরের শেষভাগে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত কর্মসূচিতে যোগ দেবেন সরকার প্রধান। উদ্বোধন করবেন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম। একই অনুষ্ঠানে অন্যান্য অনুদান এবং স্থানীয় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে কিশোরগঞ্জবাসীর প্রত্যাশার কেন্দ্রে এখন উন্নয়ন। অবকাঠামো, যোগাযোগ, কৃষি ও মৎস্য খাতে নতুন উদ্যোগ চান জেলার মানুষ। দীর্ঘদিন পর সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জ সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাদের আশা, রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি জেলার উন্নয়নেও নতুন গতি আনবে এই সফর।
তারেক রহমানের আগমনে খুশি সাধারণ মানুষ। ফ্যামিলি কার্ড ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদানের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন তারা। তাদের প্রত্যাশা, এসব কর্মসূচির সুফল দ্রুত দেশের নিম্নআয়ের পরিবার ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছাবে।
কিশোরগঞ্জ – ১ (সদর- হোসেনপুর ) আসনের এমপি মাজহারুল ইসলাম ও কিশোরগঞ্জ-২ ( কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া ) আসনের এমপি মো: জালাল উদ্দিন জানান ,প্রধানমন্ত্রীকে বরণে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে ।
আন্দোলন সংগ্রাম ও দুঃসময়ে কিশোরগঞ্জের মানুষ বিএনপির পাশে ছিলেন উল্লেখ করে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি-যোগাযোগ, চিকিৎসা, কৃষি, মৎস্য ও অবকাঠামোর উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই কার্যকর উদ্যোগ নেবেন এমনটাই প্রত্যাশা করেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে যুক্তরাজ্য থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভৈরব স্টেডিয়ামে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায়ও বক্তব্য দেন তারেক রহমান।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
