ভৈরবে একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একসঙ্গে তিন জমজ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন প্রিয়া বর্মণ (২১) নামের এক গৃহবধূ। জন্ম নেওয়া নবজাতকদের মধ্যে দুজন ছেলে ও একজন মেয়ে রয়েছে। বর্তমানে মা ও তিন নবজাতকই সুস্থ আছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে ভৈরবে ডা. ইসরাত জাহান স্পেশালাইজড হাসপাতালে এই সফল সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়।
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রিয়া বর্মণ ভৈরব পৌর শহরের জগন্নাথপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকার গ্রিস প্রবাসী বিজয় বর্মণের স্ত্রী। দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। এটি এই দম্পতির প্রথম সন্তান। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই ডা. ইসরাত জাহানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন প্রিয়া বর্মণ।
পরবর্তীতে চিকিৎসকের চিকিৎসায় তিনি গর্ভধারণ করেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগষ্ট)
দুপুরে প্রসব ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন প্রিয়া বর্মণ। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ডা. ইসরাত জাহান সিজারিয়ানের মাধ্যমে নবজাতকদের প্রসব করান।
হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. এ.জেড.এম ফরহাদ জানান, নির্ধারিত সময়ের একটু আগে, অর্থাৎ সাড়ে সাত মাসের মাথায় গর্ভকালীন জটিলতা ও প্রসব ব্যথা নিয়ে প্রিয়া বর্মণকে হাসপাতালে আনা হয়। তাৎক্ষণিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একে একে তিন সন্তানকে নিরাপদে প্রসব করানো হয়। তিনি আরও জানান, তাদের হাসপাতালে এই নিয়ে পঞ্চমবারের মতো একসঙ্গে তিনটি করে সন্তান সফলভাবে প্রসব করানো হলো।
সিনিয়র স্টাফ নার্স জেবা আক্তার জানান, জন্মকালে ওজন কিছুটা কম থাকায় শিশুদের সুরক্ষায় ২৪ ঘণ্টা এনআইসিইউতে (NICU) রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হয়। বর্তমানে তারা সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত রয়েছে। একসঙ্গে তিন সন্তান লাভ করায় হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও পুরো পরিবারে বইছে আনন্দের বন্যা।
নবজাতকদের ফুফু রূপা বর্মণ জানান, গর্ভাবস্থার দুই মাস বয়স থেকেই তারা তিন সন্তান হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছিলেন এবং নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। নতুন অতিথিদের আগমনে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সেবার প্রশংসা করেন। সন্তানলাভের পর প্রসূতি প্রিয়া বর্মণ বলেন, দুই বছর অপেক্ষার পর একসঙ্গে পাওয়া এই তিন সন্তানকে তিনি মানুষের মতো মানুষ ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চান।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
