বাংলা চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেত্রী শবনম। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে ঢাকার চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তৎকালীন পাকিস্তানের সিনেমাতেও তিনি নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। অভিনয়গুণে শবনম হয়ে উঠেছিলেন দুই বাংলার পাশাপাশি পাকিস্তানেরও জনপ্রিয় তারকা।
চলচ্চিত্রে দীর্ঘ জীবন কাটালেও এফডিসির সঙ্গে তার মনে জমে আছে গভীর অভিমান। জীবনের শেষ সময়ে তিনি তার মৃতদেহ এফডিসিতে নিতে বারন করেছেন। নিজের মতো করে শান্তিতে থাকতে চান চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী।
তার অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘আম্মাজান’। এরপর কেন আর কোনো শুটিং ফ্লোরে যাননি ? এমন প্রশ্নের জবাবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিমান ও ক্ষোভের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন শবনম।
'আম্মাজান' খ্যাত এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আম্মাজান’ সিনেমার শুটিংয়ের পর আমি কোনো স্টুডিওতে যাইনি, হাতে গোনা কয়েকটি অনুষ্ঠানে গিয়েছি। অনেক ব্যাপার আছে, প্রাণ খুলে সেসব বলতে পারছি না, পারব না। আর বলে লাভও হবে না। আমার মুখ পুরোপুরি বন্ধ।
মাঝে অনেক দিন আমি দেশের বাইরে ছিলাম। দেশে আসার পর যা কিছু পেয়েছি, যা দেখেছি, তা নিয়ে আমি মুখ খুলতে চাই না।
অভিমান করে কিংবদন্তি এই অভিনেত্রী বলেন, এর মধ্যে কোনো একদিন শুনবেন, আমি মরে গেছি। তখন এফডিসির লোকজন অস্থির হয়ে উঠবে, সেখানে আমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আমি তো আমার ছেলেকে স্পষ্ট বলে দিয়েছি, আমার মরদেহ যেন কোনোভাবেই এফডিসিতে না যায়। রবিন (রবিন ঘোষ, প্রখ্যাত সুরকার ও সংগীত পরিচালক, অভিনেত্রী শবনমের স্বামী) সাহেবও বলে গিয়েছিলেন, তার মরদেহও সেখানে নেওয়া হয়নি।’
এফডিসিতে জীবনের একটি বড় অংশ কাটিয়েছেন, সেই প্রতিষ্ঠান নিয়ে এমন অভিমানের কারণ কী? এমন প্রশ্নেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে শবনম বলেন, 'অবশ্যই কারণ আছে। আমি তো বলেছি, বলব না'।
ষাটের দশক থেকে নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ পর্যন্ত চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করেছেন শবনম। আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) এই নন্দিত অভিনেত্রীর জন্মদিন। ১৯৪৬ সালে জন্ম নেওয়া শবনম পা রাখলেন জীবনের ৮১তম বছরে।
জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেত্রী শবনমের জন্মদিনে বাংলা আওয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে রইলো শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
