পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খালি ঘরে একা পেয়ে ৫ম শ্রেণি পড়ুয়া মাদরাসা ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রভাবশালী শিমুল হাওলাদার নামের এক যুবনেতার বিরুদ্ধে। গত (১০ আগষ্ট) বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউপির পশ্চিম মধুখালি গ্রামের ৩ নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার পর ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও ওই প্রভাবশালীর ভয়ে মুখ খোলার সাহস পায়নি দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করা ওই পরিবারটি। তবে বিষয়টি স্থানীয় ভাবে শালিস মিমাংসার মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলে ২৪ আগষ্ট তা জানাজানি হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী শিশুটির মা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ঘটনার দিন আমি পাশের বাড়িতে ছিলাম। আমার স্বামীও বাড়িতে ছিলেন না। এসময় আমার ছোট মেয়ে ঘরে বসে ফোন দেখছিল। কিন্তু ওই সময়ে শিমুল হাওলাদার তিনটি রুটি নিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন।
তিনি বলেন, এসময় একটি রুটি তিনি নিজে খান এবং একটি রুটি আমার মেয়েকে খেতে বলেন। পরে আর একটি রুটি মেয়ের হাতে দিয়ে বলেন এটা তোর মাকে দিবি। কিন্তু তোর মা কই জিজ্ঞেস করে শিমুল। মা ঘরে নাই বলতেই তার মেয়েকে চেপে ধরে। এছাড়া শিমুলের পুরুষাঙ্গ তার মেয়ের হাতে ধরিয়ে দিয়ে কিছু করতে বলে।পড়ে তার মেয়ে উচ্চস্বরে চিৎকার দিয়ে ঘর থেকে বেড়িয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এতোকিছুর পরেও মুখ খুলতে সাহস পাননি তিনি কারও কাছে অভিযোগ দেওয়ার।
এমনকি শিশুটির বাবাও রয়েছেন ভিতীর মধ্যে। এ সংবাদ প্রকাশিত হলে তাদের বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার সংশয় রয়েছে বলেও কান্না করেন তিনি। তার অভিযোগ, স্থানীয় ভাবে তারাই শালিস মিমাংসা করতে বলছে। এর চেয়ে বেশি কিছু করতে গেলে আমাদের ক্ষতি হবে। তাই স্থানীয় নেতাদের শালিস মানতে বাধ্য তিনি। তাই ২৩ আগষ্ট সুযোগ বুঝে মেয়েটির বাবা কলাপাড়া থানায় অভিযোগ নিয়ে গেলেও লিখিত অভিযোগ এখনও দায়ের করেন নি।
এদিকে স্থানীয় অসংখ্য মানুষের অভিযোগ,
মিঠাগঞ্জ ৩ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি ও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য শিমুল হাওলাদার এর আগেও একাধিক নারী ঘটিত অপরাধ করেছেন। কিন্তু তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি, বা তিনি কোন ধরনের শাস্তিও পাননি। আগের ঘটনাগুলোতে বিচার না হওয়ায় এবার একটি ছোট শিশুকে নির্যাতন চালিয়েছে। তাই এমন জঘন্য মানুষের কঠিন শাস্তির দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.আরিফুজ্জামান জানান, দরিদ্র পরিবারটির পাশ থেকে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শিমুল হাওলাদার জানান, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। একটি পক্ষ তাকে ফাঁসাতে চাইছে।
কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, থানায় আসার পর আমরা অভিযোগ দিতে বলেছি। কিন্তু তারা অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দায়ের করা হলে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
