স্বামী ও সন্তানের মরদেহ শেষবারের মতো একনজর দেখতে চান তার স্ত্রী, মা ও স্বজনরা। তাই মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
রাশিয়ার আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে (এজিসিসি) গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত হন ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেন। তিনি মৃত রতন মিয়ার ছেলে।
নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবার। কোনো সান্ত্বনাই যেন তাদের শোক লাঘব করতে পারছে না।
নিহতের মা রোকেয়া বেগম, স্ত্রী রিপা বেগম ও এলাকাবাসী জানান, দেশে থাকাকালে জাকির রিকশা চালাতেন এবং বিভিন্ন কাজ করে সংসার চালানোর চেষ্টা করতেন। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতে না পেরে প্রায় দেড় বছর আগে জমিজমা বিক্রি ও ধারদেনা করে রাশিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে আমুর এলাকায় এলএনজি সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের অধীনে একটি গ্যাস কমপ্লেক্সে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিদেশে গিয়ে খুব ভালো অবস্থানে না থাকলেও তার উপার্জনে কোনো রকমে সংসার চলছিল। সম্প্রতি চাকরিতে পদোন্নতি হওয়ায় পরিবারের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু সেই আশাই মুহূর্তে পরিণত হয়েছে শোকে।
প্রায় পাঁচ দিন আগে কর্মস্থলে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় জাকির নিহত হন। দুই দিন আগে তার মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
জাকিরের পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও একমাত্র কন্যা সন্তান। এক বছর আগে তার বাবা মারা গেছেন। ফলে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন জাকির। তার মৃত্যুতে সংসার পরিচালনা ও ঋণের বোঝা কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।
এলাকাবাসীর দাবি, জাকিরের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হোক এবং রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হোক।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ফুল মিয়া বলেন, “জাকির হোসেন একজন ভালো মানুষ ছিলেন। সংসারের স্বচ্ছলতার জন্য দেড় বছর আগে জমিজমা বিক্রি ও ঋণ করে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। সেখানে কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে।
আমরা চাই তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হোক এবং পরিবারকে যথাযথ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হোক।”
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, “রাশিয়ায় গ্যাস বিস্ফোরণে ভৈরবের জাকির হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি আমরা জেনেছি। পরিবারটি অসচ্ছল ও অসহায়। তার স্ত্রী ও একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবারকে সরকারি সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
