ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

ভৈরবে ১০ টাকার নকল রাজস্ব স্ট্যাম্পের রমরমা বাণিজ্য, প্রশাসনের নজরদারির দাবি

সারাদেশ | এম এ হালিম। ভৈরব প্রতিনিধি।

(২২ মিনিট আগে) ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার, ৭:১০ অপরাহ্ন

banglahour


ভৈরব উপজেলায় সরকার নির্ধারিত ১০ টাকা মূল্যের রাজস্ব স্ট্যাম্পের একটি নকল চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন স্টেশনারি ও কম্পিউটারের দোকানে অবাধে বিক্রি হচ্ছে এসব জাল স্ট্যাম্প। খালি চোখে আসল ও নকলের তফাত সহজে বোঝা না গেলেও এর মাধ্যমে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আইনি ঝুঁকির মুখে পড়েছেন।

জানা যায়, চক্রের সদস্যরা আসল রাজস্ব স্ট্যাম্পের হুবহু নকল করে বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে। নিরাপত্তা কালি, জলছাপ এবং কাগজের মানে সূক্ষ্ম তফাত থাকলেও সাধারণ গ্রাহকরা তা ধরতে পারছেন না। চক্রটি স্থানীয় কিছু কম্পিউটারের দোকান ও স্টেশনারি ব্যবসায়ীকে কম দামে এসব স্ট্যাম্প সরবরাহ করে। অধিক লাভের লোভে ব্যবসায়ীরাও সাধারণ গ্রাহকদের কাছে এগুলো বিক্রি করছেন। দলিলপত্র, চুক্তিপত্র এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে এই জাল স্ট্যাম্প ব্যবহারের ফলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের আইনি জটিলতার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কম্পিউটারের দোকানি জানান, স্থানীয় দুলাল মিয়ার ফটোস্টেট দোকান থেকে তারা এই নকল রাজস্ব স্ট্যাম্প সংগ্রহ করেন। তিনি আরও বলেন, পোস্ট অফিস থেকে রাজস্ব স্ট্যাম্প কিনে তেমন লাভ হয় না। আমরা ১০ টাকার রাজস্ব স্ট্যাম্পগুলো দুলাল মিয়ার কাছ থেকে ৭ টাকায় কিনে থাকি এবং পরে তা খুচরা বিক্রি করি।


​​অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দুলাল মিয়া দাবি করেন, এই রাজস্ব স্ট্যাম্পগুলো অন্য কেউ আমাকে দিয়ে যায় না। আমি অনেক সময় পরিচিত বিভিন্ন রিকশাওয়ালাকে বলে দিলে তারা পোস্ট অফিস থেকে এনে দেয় বা নিজে গিয়েও আনি। পোস্ট অফিস থেকে অধিক সংখ্যক রাজস্ব স্ট্যাম্প কেনার সময় কোনো মেমো দেওয়া হয় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কোনো মেমো দেওয়া হয় না এবং এগুলো আসল নাকি নকল তা তিনি জানেন না।

স্থানীয় বাসিন্দা আলাল উদ্দিন বলেন, আমরা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে থেকে স্ট্যাম্প কিনি। কিন্তু ১০ টাকার এই স্ট্যাম্পগুলোও যে নকল হতে পারে, তা আমাদের ধারণার বাইরে ছিল। এর ফলে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে এই চক্রটিকে আইনের আওতায় আনা।


​তবে পোস্ট অফিস থেকে স্ট্যাম্প বিক্রির ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভৈরব পোস্ট মাস্টার আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, আমাদের এখানে প্রতি মাসে আনুমানিক দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার রাজস্ব স্ট্যাম্প বিক্রি হয়। হেড অফিস থেকে সরাসরি স্ট্যাম্প এনে আমরা স্লিপ বা মেমোর মাধ্যমে বিক্রি করি। সুতরাং, আমাদের অফিস থেকে নকল স্ট্যাম্প বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরও জানান, যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে যে অফিস থেকে নকল স্ট্যাম্প দেওয়া হয়েছে, তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে গণমাধ্যমের কাছে দেখানো স্ট্যাম্পটি দেখে তাঁর কাছে আসল বলে মনে হয়নি।

​
​এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে। খুব শীঘ্রই বাজার মনিটরিং ও জালিয়াতি রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে এবং এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭৭৮০০৪৭০০
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
বিশেষ প্রতিনিধিঃ তাহিরুল ইসলাম