ঢাকা, ৯ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

‘আগামীকাল থাকব কি না জানি না’, মৃত্যুর চার দিন আগে বলেছিলেন নানা পাটেকর

বিনোদন | বিনোদন ডেস্ক।

(১২ ঘন্টা আগে) ৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৭:৪১ অপরাহ্ন

banglahour

বলিউডের প্রবাদপ্রতিম অভিনেতা নানা পাটেকর ৭৫ বছর বয়সে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়। তবে তাঁর মৃত্যুর মাত্র চার দিন আগের একটি বক্তব্য এখন নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। গত ৪ অক্টোবর গোয়ার ডোনা পাউলায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে শেষবারের মতো প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল নানা পাটেকরকে। ‘সম্রাট ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল’-এর ইনস্টলেশন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি। সাদা কুর্তা ও গলায় স্কার্ফ পরা অভিনেতা সেই অনুষ্ঠানে প্রয়াত গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মনোহর পারিকরের কথাও স্মরণ করেন।

সেই অনুষ্ঠানেই জীবন ও মৃত্যুর প্রসঙ্গ উঠে আসে তাঁর কথায়। নানা পটেকার বলেছিলেন, “আমরা প্রত্যেকেই একদিন চলে যাব। আমি জানি না, আগামীকাল আমি থাকব কি না।” মৃত্যুর আগে মানুষ নিজের জীবনে কী করতে পেরেছে, কী করতে চেয়েছিল এবং নিজের সময়কে কতটা অর্থপূর্ণভাবে ব্যবহার করেছে, সেই প্রশ্নও নিজেকেই করার কথা বলেছিলেন তিনি।

নানা আরও বলেছিলেন, শুধু নিজের স্ত্রী, সন্তান এবং বাড়িকে ঘিরে জীবনকে সীমাবদ্ধ রাখলেই মানুষের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সমাজের জন্য কিছু করা, নিজের চারপাশের মানুষের জন্য কিছু করা, সেটাও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করতেন তিনি।

শুধু মৃত্যু নয়, সমাজ ও রাজনীতি নিয়েও তিনি নিজের মত প্রকাশে করেন। তাঁর মতে, কোনও বিষয়ে আপত্তি থাকলে প্রতিবাদ করা উচিত, কিন্তু সেই প্রতিবাদের ভাষায় শালীনতা থাকা জরুরি। প্রকাশ্যে মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু তার জন্য কাউকে অপমানজনক ভাষায় আক্রমণ করা উচিত নয় বলেই মনে করতেন তিনি।

নানা পাটেকরের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চলচ্চিত্র মহলে। প্রায় পাঁচ দশকের অভিনয় জীবনে তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন, নায়ক বা খলনায়কের প্রচলিত সংজ্ঞার মধ্যে তাঁকে বেধে রাখা যায় না। অভিনয়ের পাশাপাশি থিয়েটার, পরিচালনা এবং সমাজসেবার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন নানা।

২০১৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন একাধিকবার। তাঁর অভিনয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল চরিত্রের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ঢুকে যাওয়া-কখনও কঠোর, কখনও সংবেদনশীল, কখনও রাগী, আবার কখনও হাস্যরসাত্মক চরিত্রেও সমান স্বচ্ছন্দ ছিলেন তিনি।

১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময় অভিনয় থেকে বিরতি নিয়ে তিনি ভারতীয় সেনার সঙ্গে কাজ করতে গিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রির সঙ্গে প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন।

৭৫ বছরের জীবনে নানা পাটেকর রেখে গেলেন এক অনন্য উদাহরণ। পর্দায় কখনও তিনি নায়ক, কখনও খলনায়ক, কখনও কমেডির চরিত্র। কিন্তু বাস্তব জীবনে তাঁর শেষ কথাগুলিই যেন তাঁর দর্শনের পরিচয় দিয়ে গেল—জীবন কতটা দীর্ঘ হবে তা কেউ জানে না, তাই যতদিন সময় আছে, ততদিন কিছু করার চেষ্টা করে যাওয়া জরুরি।

বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ার ডোনা পাউলায় নিজের বাড়িতে  হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাঁকে সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। ভোর প্রায় ৫টা ১০ মিনিট নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলিউডের শক্তিমান অভিনেতা নানা পাটেকর।
সূত্রঃ আজকাল অবলম্বনে।

বিনোদন থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭৭৮০০৪৭০০
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
বিশেষ প্রতিনিধিঃ তাহিরুল ইসলাম