ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি অসহায়-অসচ্ছল ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করেছে জেলা পরিষদ। বৃহস্পতিবার জেলা পরিষদ ডাকবাংলো ও অডিটোরিয়ামে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সকালে মুক্তাগাছা জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শন শেষে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদ ময়মনসিংহের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। এ সময় প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও মুক্তাগাছা আসনের এমপি মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলু। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র।
পরে ডাকবাংলো চত্বরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ করা হয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেটও বিতরণ করা হয়।
দুপুরে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে মুক্তাগাছা উপজেলার অসহায়, দুস্থ ও অসচ্ছল ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কে অবহিতকরণ ও চেক বিতরণ করা হয়। এ সময় ১৮টি প্রকল্পের বিপরীতে মোট ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়। এছাড়া তিনজন অসহায় ব্যক্তিকে মোট ৪০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। বক্তব্য দেন এমপি মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান খান রতন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুজ্জামান লেবু ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম নাজমুস সালেহীন।
সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, জেলা পরিষদকে শক্তিশালী, জনবান্ধব ও জনসম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন বা বরাদ্দের জন্য মানুষকে জেলা পরিষদে এসে হয়রানির শিকার হতে হবে না।
তিনি বলেন, আমরা জেলা পরিষদকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে চাই। আগে বিভিন্ন প্রকল্পের অনুমোদন ও বরাদ্দের জন্য মানুষকে জেলা পরিষদের বারান্দায় বারান্দায় ঘুরতে হয়েছে। এখন আমরা চাই, জনগণের বারান্দায় জেলা পরিষদের কর্মকর্তারা যাক।
প্রিন্স বলেন, প্রয়োজনে ইউনিয়নে ইউনিয়নে গিয়ে বরাদ্দ পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের কাজ সরেজমিনে তদারকি করা হবে। এতে একদিকে মানুষের হয়রানি কমবে, অন্যদিকে উন্নয়নকাজের মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে জেলা পরিষদের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হয়েছে। আগের বিভিন্ন অর্থবছরে নেওয়া অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন না হয়ে ফাইলবন্দী অবস্থায় ছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর সেসব প্রকল্প মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ফাইলবন্দী প্রকল্পগুলোকে মাঠপর্যায়ে নিয়ে আসার কাজ করছি। জেলা পরিষদকে জনসম্পৃক্ত, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি।
তিনি আরও বলেন, মুক্তাগাছায় আসার পথে জেলা পরিষদের অর্থায়নে বাস্তবায়িত কয়েকটি প্রকল্প পরিদর্শন করা হয়েছে। উন্নয়নকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে জনগণের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জেলা পরিষদের সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে গেলে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও কমবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
