জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পারওয়ার বলেছেন, ‘মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও প্রত্যাশা পূরণে জামায়াত দায়িত্বশীলদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণের অধিকার, সমস্যা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংগঠনের প্রতিটি স্তরে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। জনগণের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি না করে তাদের কথা শুনতে হবে এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে সংগঠনের প্রতি মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।’ গতকাল শনিবার সিলেট নগরের মদিনামার্কেট এলাকার একটি মিলনায়তনে সিলেট অঞ্চল জামায়াত আয়োজিত জেলা ও মহানগর কর্মপরিষদ সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত সেক্রেটারি আরও বলেন, ‘দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ত্যাগ, ধৈর্য ও অবিচল থাকার কোনো বিকল্প নেই। জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা দ্বীনের পথে অবিচল থেকে হাসিমুখে শাহাদাত বরণ করে ত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাদের আত্মত্যাগ, আদর্শ ও সংগ্রাম থেকে শিক্ষা নিয়ে দায়িত্বশীলদের দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থ, আরাম-আয়েশ ও প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। ঈমানি দৃঢ়তা, নৈতিক শুদ্ধতা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাকে ধারণ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রত্যয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিলেট অঞ্চল পরিচালক অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সভাপতিত্বে ও সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের পরিচালনায় শিক্ষাশিবিরে সিলেট মহানগর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নায়েবে আমির-সেক্রেটারি ও কর্মপরিষদ সদস্যবৃন্দ অংশ নেন।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পারওয়ার আরও বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনে সংগঠনের প্রার্থীদের পক্ষে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হলে আগে থেকেই সুপরিকল্পিত কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। এলাকার মানুষের চাহিদা, সমস্যা ও প্রত্যাশা বুঝে নির্বাচনী কার্যক্রম সাজাতে হবে। প্রার্থীর যোগ্যতা, দক্ষতা, সততা ও জনসম্পৃক্ততা মানুষের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি কর্মীদের মধ্যে সমন্বয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ বাড়াতে হবে। জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, ঘরে ঘরে মতবিনিময় এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা উপস্থাপনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষের আস্থা অর্জন ও জনসমর্থন বৃদ্ধিতে দায়িত্বশীলদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
শিক্ষাশিবিরে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান এবং সিলেট অঞ্চল টিম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির কাজী মাওলানা মুখলিছুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা আমির ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলী, সিলেট মহানগর নায়েবে আমির হাফিজ মিফতাহুদ্দীন ও ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক আবদুল হান্নান, সিলেট মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী ও জেলা সেক্রেটারি মো. জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিলেট অঞ্চল পরিচালক অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘জামায়াত দায়িত্বশীলদের নৈতিক ও সাংগঠনিক মানোন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আত্মশুদ্ধি ও জ্ঞানচর্চার বিকল্প নেই। সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং জবাবদিহি মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো, মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার মাধ্যমে দায়িত্বশীলদের নিজেদের যোগ্যতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত করতে হবে। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে থেকে দায়িত্ব পালনে সবাইকে আরও আন্তরিক ও সচেষ্ট থাকতে হবে।'

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
