ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে বিজিবির গুলিতে চোরাকারবারির মৃত্যু : এলাকাবাসীর বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে চোরাচালান বিরোধী অভিযানে বিজিবির টহলদলের ওপর সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিদের হামলার ঘটনায় আত্ম রক্ষার্থে বিজিবির গুলিতে নোমান আলী (৩৫) নামে এক চোরাকারবারির মৃত্যু হয়েছে। নিহত নোমান আলী হালুয়াঘাটের বেতপুরী গ্রামের আলাল উদ্দিনের ছেলে।
তিনি স্থানীয় বাঘাইতলা বাজারের ইজারাদার ছিলেন। আজ (সোমবার) ভোরে হালুয়াঘাটের তেলিখালী বিওপির আওতাধীন জলজলিয়া এলাকায় ১১১৯ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
৩৯ বিজিবির পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাচালান বিরোধী অভিযান চালিয়ে পণ্য আটক করে টহলদল। আটক করা পণ্য নিয়ে ফেরার পথে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিরা বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, তেলিখালী বিওপির ছয় সদস্যের একটি টহল দল সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে ছয়টি ভারতীয় গরু আটক করে।
পরে আটক গরুগুলো ক্যাম্পে নিয়ে আসার পথে সংঘবদ্ধ একটি দল তার মধ্য থেকে দুটি গরু বল প্রয়োগ করে ছিনিয়ে নেয়। অবশিষ্ট গরুগুলোও ছিনিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল বিজিবির টহল দলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। মৌখিকভাবে সতর্ক করার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্কতামূলক গুলিবর্ষণ করা হয়। তবে হামলা অব্যাহত থাকলে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান বিজিবি সদস্যরা। এতে এক চোরাকারবারি গুলিবিদ্ধ হন। তাকে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। তবে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে হালুয়াঘাট থানার সামনে বিক্ষোভ করে স্থানীয় এলাকাবাসীরা।
নিহত নোমানের ছোট ভাই আবু রায়হান ও পরিবারের অভিযোগ, রাতে এলাকায় গরু খুঁজছিলেন বিজিবি সদস্যরা। খবর পেয়ে তাঁর ভাই জলজলিয়া গ্রামে যান। সেখানে বাঘাইতলা বাজারের ইজারা সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে তর্ক বিতর্কের একপর্যায়ে তাঁকে গুলি করা হয়। আবু রায়হান অভিযোগ করেন, ভোর সাড়ে চারটার দিকে গুলির ঘটনা ঘটলেও প্রায় তিন ঘন্টা তার ভাইকে ঘটনাস্থলে আটকে রাখা হয়।
এলাকাবাসীর দাবি নোমান একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। বিজিবি সদস্যরা নোমানের বাড়িতে গিয়ে শরীরে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে তাকে হত্যা করে। এর প্রতিবাদে এলাকাবাসীরা রাস্তায় টুুল ও ইট ফেলে হালুয়াঘাটের প্রধান সড়কটি অবরোধ করে রাখে। এসময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান ও টহল অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)।
হালুয়াঘাটের তেলিখালী ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার মো. আব্দুল কাদির জানান, টহল দলের ওপর হামলার পর আত্মরক্ষার্থেই এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ সময় এক বিজিবি সদস্য আহত হন। পুরো ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।
হালুয়াঘাট থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জালাল উদ্দিন জানান, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। সরকারি কাজে বাধা ও হামলার ঘটনায় হালুয়াঘাট থানায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
