ঢাকা, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

সিসি ক্যামেরার ডিভিআর নিয়েও শেষরক্ষা হয়নি, ধামরাইয়ের ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪

সারাদেশ | মো সাফায়েত খান ওপেল। ধামরাই প্রতিনিধি।

(৫৬ মিনিট আগে) ২৪ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার, ৬:৪৬ অপরাহ্ন

banglahour

ঢাকার ধামরাইয়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটো রিকশার গ্যারেজে সিসি ক্যামেরার ডিভিআর বক্সসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল ও নগদ টাকা লুটের ঘটনার দেড় মাসের মাথায় রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম কাওছার সুলতানের দূরদর্শিতা ও আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির নিখুঁত ব্যবহারের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁ এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আজ ২৪ অক্টোবর, শনিবার সকালে গ্রেফতারকৃত ওই চার ডাকাতকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ধামরাই থানা পুলিশের বিশেষ দল ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করে।

একই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে লুণ্ঠিত তিনটি ব্যাটারিচালিত অটো রিকশা এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ছয় চাকার পিকআপ ভ্যান। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—চক্রের মূল হোতা সোহেল (৩০), ইমাম হোসেন শাওন (৩২), মোঃ সবুজ (২৯) এবং হাবিবুর রহমান ওরফে রনক ওরফে রনি (২৬)।

মামলা রুজুর পর ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এবং সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় মামলার তদন্তভার পান ধামরাই থানার এসআই এস এম কাওছার সুলতান। অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নাজমুল হুদা খানের নেতৃত্বে এসআই কাওছার ঘটনার পর থেকেই ডাকাত দলটির সন্ধানে মাঠে নামেন। কোনো প্রথাগত সূত্র না থাকায় তিনি আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তের জাল বিছাতে শুরু করেন।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর ভোররাতে ধামরাই থানাধীন সুতিপাডাঁ ইউনিয়নের ছোট কালামপুর এলাকায় বিল্লাল হোসেনের মালিকানাধীন অটো রিকশার গ্যারেজে এক ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। কালো মুখোশ পরা ৮-৯ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল গ্যারেজের পাহারাদারকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও হাত-পা বেঁধে হাতুড়ি ও রামদার ভয় দেখিয়ে ৪টি ইজি বাইক, ২৭টি ব্যাটারি, সিসি ক্যামেরার ডিভিআর মেশিন এবং নগদ টাকাসহ সর্বমোট ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকার মালামাল লুট করে একটি পিকআপ ভ্যানে করে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় ১১ সেপ্টেম্বর ধামরাই থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করা হয়।

কোনো প্রথাগত সূত্র (ক্লু) না থাকায় মামলা রুজুর পর ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এবং সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় তদন্তের ভার দেওয়া হয় ধামরাই থানার এসআই এস এম কাওছার সুলতানকে। অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নাজমুল হুদা খানের নেতৃত্বে এসআই কাওছার আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করেন।

দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর গত ২৩ অক্টোবর ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁ থানার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার এবং লুণ্ঠিত মালামালসহ ডাকাতিতে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করা হয়। ধামরাই থানায় যোগদানের পর থেকেই একের পর এক জটিল ও ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটন করে এসআই কাওছার সুলতান মেধা ও দক্ষতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন।

এ বিষয়ে ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নাজমুল হুদা খান বলেন, "ঘটনাটি সম্পূর্ণ ক্লুলেস ছিল এবং ডাকাত দল সিসি ক্যামেরার ডিভিআর বক্সটি পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিল যাতে কোনো প্রমাণ না থাকে। কিন্তু আমাদের চৌকস তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কাওছার সুলতানের সাহসিকতা, সুপরিকল্পিত কর্মপদ্ধতি ও আধুনিক প্রযুক্তির নিখুঁত ব্যবহারের মাধ্যমে এই দুর্ধর্ষ চক্রটিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। অপরাধ করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। গ্রেফতারকৃত ৪ আসামিকে আজ সকালে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতার এবং লুণ্ঠিত অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"

 

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭৭৮০০৪৭০০
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
বিশেষ প্রতিনিধিঃ তাহিরুল ইসলাম