দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গর্ভবতী নারী ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বান্দরবানে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে তিন সপ্তাহব্যাপী ধাত্রীবিদ্যাবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দুর্গম এলাকার মা ও শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ মাতৃত্ব এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে বান্দরবান সেনা রিজিয়নের তত্ত্বাবধানে এবং ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাপনায় ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের আয়োজনে বান্দরবান ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স প্রাঙ্গণে প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. শাহীন হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সরফরাজ হায়দার। এ সময় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা ১৬ জন প্রশিক্ষণার্থীর হাতে সনদপত্র ও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, বান্দরবান সেনা রিজিয়নের অধীন বিভিন্ন পাড়া থেকে নির্বাচিত ১৬ জন পাহাড়ি ও বাঙালি নারী এ প্রশিক্ষণে অংশ নেন। তিন সপ্তাহব্যাপী নিবিড় প্রশিক্ষণে তাঁদের নিরাপদ প্রসব, গর্ভকালীন ও প্রসবোত্তর পরিচর্যা, নবজাতকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান দেওয়া হয়।
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, দীর্ঘ দূরত্ব ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে অনেক সময় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও নবজাতকের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা সময়মতো পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় নারীদের প্রশিক্ষিত করে নিজ নিজ এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা নিজ নিজ এলাকায় গর্ভবতী নারী ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি প্রাথমিকভাবে শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার বিষয়ে সহায়তা করতে পারবেন। এতে দুর্গম জনপদের মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পেতে আরও বেশি উপকৃত হবেন।
সেনাবাহিনীর এ মানবিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রশিক্ষণার্থীরা। তাঁদের মতে, এ ধরনের প্রশিক্ষণ দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ দুর্গম পাহাড়ি জনপদে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ মাতৃত্ব ও নবজাতকের পরিচর্যায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
