দেশে রান্নার গ্যাসের বাজারে অস্থিরতা কাটছে না। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩০০ থেকে ৪৪০ টাকা বেশি দিয়ে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ২ হাজার ৩৫০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে এই সিলিন্ডার।
গত ২ নভেম্বর বিইআরসি ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করে ২ হাজার ৬০ টাকা। তবে শনিবার ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নির্ধারিত দামে কোথাও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো কোনো দোকানে পরিচিত ক্রেতা ছাড়া অন্যদের কাছে গ্যাস বিক্রিতেও অনীহা দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
এলপিজি ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, আমদানিতে ঘাটতি ও সরবরাহ সংকটের কারণে বাজারে দাম বেড়েছে। কোম্পানিগুলো চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানিকারকদের দাবি, তাঁদের পক্ষ থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কেউ কেউ বাড়তি দামে বিক্রি করলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বিইআরসি সূত্র জানায়, গত আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হলেও সেপ্টেম্বরে তা কমে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এবং অক্টোবরে ১ লাখ ৪২ হাজার টনের নিচে নেমে আসে। তবে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে আরও ৪০ হাজার ২০০ টন এলপিজি এসেছে।
বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যারা নিজেরা আমদানি না করে অন্যদের কাছ থেকে গ্যাস কিনে বিক্রি করছেন, তাঁদের কারণে বাজারে দাম বাড়ছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, রাজশাহীর বাগমারা, পটুয়াখালীর বাউফল, টাঙ্গাইলের সখীপুর ও সুনামগঞ্জের ধর্মপাশাতেও নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০ থেকে ২৪০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ১২ কেজির সিলিন্ডার।
দেশে এক কোটির বেশি গ্রাহক এলপিজি ব্যবহার করেন। এর প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালি রান্নার কাজে। ফলে নির্ধারিত দামে গ্যাস না পাওয়ায় বাড়তি ব্যয়ের চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলমের অভিযোগ, নির্ধারিত দামের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে ভোক্তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কার্যকর নজরদারি ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
