ঢাকা, ৭ নভেম্বর ২০২৬, শনিবার, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

৫০০ কোটি টাকার সার মজুত দেখালেও এর অস্তিত্ব মেলেনি গুদামে

অপরাধ | অনলাইন ডেস্ক

(২ বছর আগে) ২৬ আগস্ট ২০২৪, সোমবার, ৯:৩৮ পূর্বাহ্ন

banglahour

কাগজে-কলমে ৫০০ কোটি টাকা মূল্যের ইউরিয়া সারের মজুত থাকলেও এর অস্তিত্ব মেলেনি গুদামে। পরিবহণ ঠিকাদার, বাফার গুদাম ইনচার্জ ও বিসিআইসির কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী নানা কৌশলে ৯১ হাজার ৬৯৭ টন সার আত্মসাৎ করেছে। এর মধ্যে পরিবহণ ঠিকাদার ৬৬ হাজার টন ইউরিয়া গায়েব করেছেন। গুদামে পৌঁছে না দিয়েই সরবরাহ দেখিয়েছেন খাতা-কলমে।

এছাড়া পটুয়াখালীর বাফার গুদাম ইনচার্জ সাদা কাগজে রিসিভ দেখিয়ে লোপাট করেন ২৩৮৭ টন সার। খোদ যমুনা সার কারখানার গুদাম থেকে গায়েব হয়েছে ১৯ হাজার টন সার। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে ভয়ংকর দুর্নীতির এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। শুধু তাই নয়, এসব অনিয়মের ওপর সরকারের নিরীক্ষা অফিসও তদন্ত করেছে। সেখানেও সার আত্মসাতের একই চিত্র পাওয়া গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান রোববার যুগান্তরকে জানান, বাফার গুদামে যে পরিমাণ সারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি সেটিই তদন্ত প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মামলা করা ছাড়াও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদকে) পাঠানো হয়েছে। দুদকের তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে জানান, বিগত কর্তৃত্ববাদী সরকারের দুর্নীতির একটি ছোট দৃষ্টান্ত মাত্র।

দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী যে বিকাশ ঘটেছিল এ প্রতিষ্ঠানের একাংশ জড়িয়ে পড়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা যারা এর সঙ্গে জড়িত শুধু তারাই নন, বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সুরক্ষা ছাড়া এ সিস্টেম্যাটিক দুর্নীতি করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি হয়েছে তা নয়, লাভবান হয়েছে যারা সুরক্ষা দিয়েছেন, ওইসব প্রভাবশালী মহলও। প্রত্যাশা করব-এ ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। সুশাসন ও দুর্নীতি মুক্ত করার একটি বিশাল সুযোগ হয়েছে এই নতুন বাংলাদেশে। এখন এ ধরনের ঘটনায় কিছু দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে পারলে ভবিষ্যতের জন্য একটি বার্তা হিসাবে থাকবে।

বিসিআইসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সরবরাহ পরিবহণ ঠিকাদার যে ৬৬ হাজার টন সার আত্মসাৎ করেছে, সে ব্যাপারে মেসার্স নবাব অ্যান্ড কোম্পানির বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। আর যমুনা সার কারখানার গুদাম থেকে আত্মসাতের ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত চলছে। একইভাবে পটুয়াখালী বাফার গুদাম ইনচার্জের কাছে আত্মসাতের ঘটনার জবাব চাওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে ইউরিয়া সারের মোট চাহিদা ২৭ লাখ টন, টিএসপি সার ৭ লাখ ৫০ হাজার টন, ডিএপি সার ১৫ লাখ টন এবং এমওপি সারের চাহিদা সাড়ে ৯ লাখ টন। কিন্তু বিপুল পরিমাণ সার আমদানি-পরিবহণ ও গুদামজাতকরণ নিয়ে প্রতিবছরই ঘটছে নানা অনিয়ম। অথচ এই সার আমদানি করতে সরকারকে গুনতে হয় কয়েক মিলিয়ন ডলার। বর্তমান ডলার সংকটের কারণে সার আমদানিও ব্যাহত হচ্ছে।

বিসিআইসির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তি মোতাবেক ২০২২ সালে পরিবহণ ঠিকাদার মের্সাস নবাব অ্যান্ড কোম্পানি ৪ হাজার ৪৮২ টন ইউরিয়া সার গুদামে সরবরাহ না করে তা আত্মসাৎ করে। এই সার পরবর্তী বছরেও সরবরাহ করেনি। একইভাবে পৃথক লট থেকে ৬১ হাজার ৭২৬ টন ইউরিয়া সার গুদামে সরবরাহ করেনি একই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মের্সাস নবাব অ্যান্ড কোম্পানি। 

গুদামে সার সরবরাহ নিয়ে উক্ত প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বিসিআইসির চুক্তি ছিল। চুক্তির ক্লজ নং-৪(এ) অনুযায়ী পরিবহণ ঠিকাদার পুরো কার্গো খালাসের জন্য পর্যাপ্ত বার্জ বা কোস্টার মোতায়েন করা এবং ৫০ দিনের মধ্যে ব্যাগযুক্ত সার গোডাউন বা কারখানায় পৌঁছে দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু অদ্যাবধি এই সার গুদামে পৌঁছায়নি। যার বাজারের তৎকালীন মূল্য অনুযায়ী পৌনে তিনশ কোটি টাকা। এই আত্মসাতের ঘটনার ব্যাপারে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোনো সুষ্ঠু জবাব মেলেনি।

সূত্র আরও জানায়, প্রথম দফায় ৪ হাজার ৪৮২ টন সার নির্ধারিত সময়ে গুদামে পৌঁছায়নি সরবরাহকারী পরিবহণ ঠিকাদার মেসার্স নবাব অ্যান্ড কোম্পানি। কিন্তু সে ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পরিবহণ বিল বাবদ (চেক ভাউচার নং-১১৬৬ ও ১২০০ মাধ্যমে) ১ কোটি ২২ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭৭৮০০৪৭০০
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
বিশেষ প্রতিনিধিঃ তাহিরুল ইসলাম