ঢাকা, ২২ নভেম্বর ২০২৪: জুলাই-আগস্টে অনুষ্ঠিত ছাত্র আন্দোলনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন পরিবর্তন এসেছে। গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতা এবং সাবেক মন্ত্রীও দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। শেখ হাসিনা এবং দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার শত শত মামলা দায়ের হয়েছে এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দলটির ভূমিকা নিয়ে অনেকেই দাবি করছেন, আওয়ামী লীগকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বৃহস্পতিবার একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। এই ফোনালাপটি ফেসবুকে আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড পেজে শেয়ার করা হয়েছে।
বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, "যদি আমরা সত্যিই ভুল করে থাকি অথবা অন্যায় করে থাকি, আমরা জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে কোনো আপত্তি জানাই না। আমাদের মধ্যে গোঁড়ামি কাজ করে না।" তবে, জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলন দমাতে আওয়ামী লীগের ভূমিকা নিয়ে অনুশোচনা প্রশ্নে তিনি বলেন, "কীভাবে কারাগারে বা জঙ্গলে বসে অনুশোচনা করব? আমাদের তো উপযুক্ত পরিবেশ নেই। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে দলগত মূল্যায়ন করতে পারলে ক্ষমা চাইতে পারি।"
নাছিম দাবি করেন, শেখ হাসিনা, মন্ত্রী, এমপি ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে গেছেন বা দেশ ছেড়েছেন, কেউ কেউ ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন, "কৌশলগত কারণে দেশের বাইরে অবস্থান করছি, রাজনীতির কোনো বিপদে পড়লে এটি একটি সাধারণ চর্চা।" তিনি আরও বলেন, যারা এখন বিরোধী রাজনীতি করছে তারা অপপ্রচার করে রাজনীতিকে ধ্বংসের চেষ্টা করছে।
জুলাই-আগস্টে আন্দোলনকারীদের নিহত হওয়ার ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। এ প্রসঙ্গে নাছিম বলেন, "শেখ হাসিনার নামে আড়াই শতাধিক মামলা হয়েছে এবং বহু নেতা-কর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। তবে উপদেষ্টারা বলছেন, আন্দোলন পরিকল্পিত ছিল, তাহলে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা কেন?" তিনি আরও দাবি করেন, "গণহত্যার বিচারের জন্য নিয়োগ পাওয়া প্রধান কৌঁসুলিও সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের আইনজীবী ছিলেন।"

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
