বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন বলয়ের প্রভাব কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের পথে হাঁটছে ব্রিকস (BRICS)। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সমন্বয়ে গঠিত এ গোষ্ঠী সম্প্রতি মার্কিন ডলারের বিকল্প একটি মুদ্রা চালুর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এ মুদ্রার মাধ্যমে গোষ্ঠীর সদস্যরা নিজেদের মধ্যে পণ্য ও সেবার লেনদেন সহজ করতে চায়।
গত অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে এ বিষয়টি উঠে আসে। গোষ্ঠীর সদস্য দেশগুলো মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে স্বাধীনতা আনতে উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে।
তবে ব্রিকসের এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্ষমতা গ্রহণের আগে থেকেই এ বিষয়ে কড়া মনোভাব প্রকাশ করে আসছেন তিনি। ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, যদি ব্রিকস সদস্যরা নতুন মুদ্রা চালু করে এবং ডলারকে প্রতিস্থাপন করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে শতভাগ শুল্ক আরোপ করা হবে।
এক অনলাইন পোস্টে ট্রাম্প বলেন, "ব্রিকস দেশগুলো ডলার থেকে দূরে সরে গিয়ে নতুন মুদ্রা চালুর চেষ্টা করছে। এটি আমরা সহ্য করব না। তারা এ ধরণের উদ্যোগ নিলে ১০০% শুল্কের সম্মুখীন হবে।"
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণের পর শুল্ক যুদ্ধের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। ব্রিকস দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেন তিনি।
ট্রাম্প এর আগেও শুল্ক ব্যবস্থার পক্ষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এবং বাণিজ্য ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শুল্ক আরোপ অত্যন্ত কার্যকর একটি কৌশল। চীন, ব্রাজিল এবং ভারতের মতো দেশগুলোর ওপর শুল্ক বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেছেন তিনি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কথা বললেও ট্রাম্প অভিযোগ করেন, "ভারত শুল্কের ক্ষেত্রে চীনের থেকেও বেশি চার্জ করে, যদিও তারা এটিকে সামান্য কিছু হিসেবে তুলে ধরে।"
বিশ্ব বাণিজ্যে ডলারের আধিপত্য বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের এ কৌশল ব্রিকসের পরিকল্পনায় কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা বাড়াতে পারে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
