ঠাকুরগাঁও সদর আড়াইশ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ছয়তলা ভবনের লিফট দীর্ঘদিন ধরে বিকল থাকায় রোগী, স্বজন, চিকিৎসক এবং হাসপাতালের স্টাফরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগীদের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে তোলার সময় স্বজনদের কাঁধে নিতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।
২০১৮ সালে চালু হওয়া ছয়তলা এই ভবনের লিফটগুলো নিয়মিত নষ্ট থাকার কারণে এই দুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। ভবনটিতে কোনো র্যাম্প না থাকায় লিফট বিকল হলে রোগীদের স্থানান্তর কার্যক্রম আরও দুরূহ হয়ে পড়ে।
রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, রোগীর স্বজনদের সিঁড়ি বেয়ে বিভিন্ন তলায় রোগীদের নিয়ে যেতে হচ্ছে। পঞ্চম তলায় মেডিসিন ওয়ার্ড এবং চতুর্থ তলায় সার্জারি ওয়ার্ডে রোগী স্থানান্তর করতে গিয়ে স্বজনরা হাঁপিয়ে যাচ্ছেন।
রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ
হাসপাতালের রোগী মর্জিনা বেগম জানান, পাঁচ দিন ভর্তি থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরতে গিয়েও পাঁচতলার সিঁড়ি বেয়ে নামতে গিয়ে অসুস্থ বোধ করছেন।
মনোয়ারা বেগম নামে আরেকজন জানান, ছয়তলায় ভর্তি থাকা তার বাবাকে দেখতে গিয়ে সিঁড়ি বেয়ে ওঠার পর তিনি প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, "লিফটের জন্য ৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে থেকেও উঠতে না পেরে পায়ে হেঁটে ছয়তলায় রোগী দেখতে গিয়েছি।"
একই অভিযোগ করেন সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, "মায়ের চিকিৎসার জন্য পাঁচতলায় যেতে গিয়ে লিফটের ভিড় ঠেলে উঠতে না পেরে তাকে কোলে করে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়েছে।"
কর্তৃপক্ষের আশ্বাস
লিফটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী তারা পদ রায় জানান, ১৫ দিন ধরে একটি লিফট বিকল থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফিরোজ জামান জুয়েল বলেন, "যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি লিফট বিকল। দুই-এক দিনের মধ্যে এটি সচল হয়ে যাবে। এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।"
তবে দীর্ঘদিনের লিফট সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
