ঢাকা, ৭ নভেম্বর ২০২৬, শনিবার, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

১০ লাখ টাকা দিলেই মিলত মুক্তিযোদ্ধা সনদ

অপরাধ | অনলাইন ডেস্ক

(১ বছর আগে) ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, বুধবার, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন

banglahour

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক বলেন, বিগত সময়ে ঘুসের বিনিময়ে অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা সনদ পেয়েছে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে অনেকেই জড়িত ছিলেন। তারা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলকে (জামুকা) দলীয় লোকজন দিয়ে পরিচালনা করেছেন। সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের নামে একটা প্রভাব বিস্তার করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নিরূপণ ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বাতিলে একটি নিরপেক্ষ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল গঠন করে দিয়েছি। এতে ঘুসসহ ছলচাতুরী করে যারা মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়েছেন তারা বাতিল হবেন। ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে নতুন কমিটি। একই সঙ্গে দল বিবেচনাসহ যেসব প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি পায়নি তাদের আবেদন আন্তরিকভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। নতুন করেও তারা আবেদন করতে পারবেন। আমরা চাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তাদের প্রাপ্য সম্মান ফিরে পাক।

ছেলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হওয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণের পরও মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি পাননি বরিশালের ফরিদ উদ্দিন। ভাগনে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা অভিযোগ তুলে সাক্ষাৎকার থেকেই বের করে দেওয়া হয় জেনারেল এমএজি ওসমানীর সুপারিশপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী সরদারকে। ঘুসের প্রতিবাদ করায় আজ পর্যন্ত স্বীকৃতিই মেলেনি একেএম সাজাহানের। এখানেই শেষ নয়। চাহিবামাত্র ঘুস দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় সনদ-ভাতা বাতিল করে দেওয়া হয় সৈয়দ এনামুল হকের।

টাকার লোভে মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করা বীর সেনানীদের স্বীকৃতি দেয়নি আওয়ামী লীগ সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক। ঠুনকো অভিযোগে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাপ্য স্বীকৃতি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। উপরন্তু কোনো প্রমাণপত্র ছাড়াই শুধু ঘুস আর দলীয় প্রীতি দেখিয়ে ভুয়া ও বিতর্কিতদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ দেওয়ার হাজারও অভিযোগ উঠেছে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী কমপক্ষে ২০ মুক্তিযোদ্ধা ক্ষোভ, দুঃখ ও হতাশা প্রকাশ করে এসব কথা। এ সময় বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ১৯৭১ সালে মুক্তি সংগ্রামের বীরত্বগাথা দালিলিক প্রমাণ প্রদর্শন, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার কথাও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বর্ণনা করেন।

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত দেশের ভাতাপ্রাপ্ত মোট মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ২ লাখ ৮ হাজার ৫০। সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত সংখ্যা ৮৯ হাজার ২৩৫ জন। গেজেট বাতিল, মুক্তিযোদ্ধা বয়সসীমা নির্ধারণসহ প্রায় ১৪ ক্যাটাগরিতে মোট মামলার সংখ্যা ২ হাজার ৭১৯টি। ইতোমধ্যে নির্ধারিত বয়সের (১২ বছর ৬ মাস) কম হওয়ায় ২ হাজার ১১১ জন মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিগত ১৫ বছরে ৩৯২৬ মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল হয়েছে। আরও প্রায় ১৩ হাজার সনদ বাতিল প্রক্রিয়া জামুকায় অপেক্ষমাণ। এদের বেশির ভাগই বিএনপি-জামায়াতপন্থি মুক্তিযোদ্ধা।

সম্প্রতি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্ত করতে ১০ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) ও ১০ সদস্যবিশিষ্ট বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কলাণ ট্রাস্টি বোর্ড ও নির্বাহী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭৭৮০০৪৭০০
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
বিশেষ প্রতিনিধিঃ তাহিরুল ইসলাম