ইউরোপে ভাগ্য ফেরানোর আশায় প্রতিবছর হাজারো পাকিস্তানি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ পথে যাত্রা করেন। এ বছর ইরান ১০ হাজার ৪৫৪ জন পাকিস্তানি নাগরিককে আটক করেছে, যারা অবৈধভাবে ইউরোপের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছিল। শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) পাকিস্তানের সামা টিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বেলুচিস্তানের ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত রুট
ইরানে আটক হওয়া বেশিরভাগ পাকিস্তানি বেলুচিস্তানের অরক্ষিত সীমান্ত অঞ্চল দিয়ে ইরানে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ইরানে অবৈধভাবে প্রবেশের ঘটনাগুলো থেকে বোঝা যায় যে, পাকিস্তানি যুবকদের ইরান হয়ে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ আটকদের চাগাই জেলার তাফতান বন্দরের মাধ্যমে পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করেছে। এফআইএ আরও জানায়, গত বছর একই সময়ে ৮ হাজার পাকিস্তানি ইরানে আটক হয়েছিল।
আফগান নাগরিকদের একই রুটে যাত্রা
পাকিস্তানি নাগরিকদের পাশাপাশি আফগান নাগরিকরাও ইউরোপে পৌঁছানোর জন্য একই রুট ব্যবহার করছেন। তাদের অনেককেই ইরানে আটক করা হয়েছে।
বেলুচিস্তানের সীমান্ত জেলাগুলোর ভূমিকা
বেলুচিস্তানের পাঁচটি জেলা—চাগাই, ওয়াশুক, পাঞ্জগুর, কেচ এবং গোয়াদর—ইরানের সাথে সীমান্ত রয়েছে এবং এগুলো অবৈধ অভিবাসনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত।
এফআইএ জানায়, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে, প্রায় ৬২ হাজার পাকিস্তানি ইরানে অবৈধভাবে প্রবেশের সময় গ্রেফতার হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মসংস্থান সংকট এবং উন্নত জীবনের আকাঙ্ক্ষা থেকেই যুবকদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার প্রবণতা বাড়ছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
