পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের সঙ্গে সংলাপে বসতে নতুন করে প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক জানিয়েছেন, সরকার কখনোই আলোচনার পথ বন্ধ করেনি এবং সংলাপে বসতে সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।
সরকারের সংলাপের আহ্বান
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আয়াজ সাদিক বলেন, সরকার সংলাপের পক্ষে ছিল এবং এখনও আছে। পিটিআই চাইলে তাদের অভ্যন্তরীণ অনুমোদন নিয়ে আলোচনায় বসতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই।
তিনি আরও জানান, পিটিআইয়ের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং আলোচনার জন্য গঠিত কমিটিও এখনো বাতিল হয়নি। তবে পিটিআই আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপে বসার সম্মতি দেয়নি।
পিটিআইয়ের প্রতিক্রিয়া ও অনড় অবস্থান
গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বিরোধী দল পিটিআইকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তবে পিটিআই তাদের দাবির ওপর অনড় থেকে জানায়, ২০২৩ সালের ৯ মে ও ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বরের ঘটনাগুলোর তদন্তের জন্য দুটি বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করতে হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনার জন্য পিটিআইকে লিখিতভাবে তাদের দাবি জানাতে বলা হয়েছিল এবং সরকারও লিখিত জবাব প্রস্তুত করছিল। কিন্তু ২৮ জানুয়ারি নির্ধারিত চতুর্থ দফার সংলাপে পিটিআই অংশ নেয়নি।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, "একটি সংলাপ সফল হতে দুই পক্ষের আগ্রহ থাকা জরুরি। পিটিআইকে আলোচনায় ফিরতে হবে, যাতে দেশ অস্থিরতার পরিবর্তে স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে যেতে পারে।"
সংলাপ বাতিল ও নতুন কৌশল
পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের নির্দেশে সরকার-পিটিআই সংলাপ কমিটি বাতিল করা হয়েছে। পরিবর্তে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে বড় ধরনের রাজনৈতিক জোট গঠনের চেষ্টা করবে।
পিটিআইয়ের মুখপাত্র সাহিবজাদা হামিদ রেজা বলেন, "আমরা আমাদের মূল দাবিতে অটল রয়েছি—বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করতে হবে। সরকার কৌশলে সময়ক্ষেপণ করছে এবং সংলাপের নামে ভুল বার্তা ছড়াচ্ছে।"
অন্যদিকে, সরকারের আলোচনাকারী দলের মুখপাত্র সিনেটর ইরফান সিদ্দিকী বলেন, "পিটিআই যেভাবে হঠাৎ সংলাপ বন্ধ করল, তা বোধগম্য নয়। তারা আমাদের লিখিত জবাবের জন্য অপেক্ষা না করেই সংলাপ বাতিল করেছে।"
সংলাপের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
বর্তমানে পিটিআই ও সরকারের মধ্যে আলোচনা অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সংলাপের পথ খোলা রাখা হলেও, পিটিআই তাদের অবস্থান কঠোর করেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে দুই পক্ষ আলোচনায় ফিরতে পারে, বিশেষ করে যদি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক জটিলতা বেড়ে যায়।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
