ঢাকা, ২২ মার্চ ২০২৫: আগামী এপ্রিলে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠেয় বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। শুক্রবার স্থানীয় তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন সদস্য ভারতের সমালোচনা করে আসছেন, যা দুই দেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এমন পরিস্থিতিতে দুই দেশের সরকার প্রধানদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক আয়োজন করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একটি সূত্র হিন্দুস্তান টাইমসকে জানায়, ‘‘সম্মেলনে বিশ্ব নেতারা একাধিকবার একে-অপরের সামনে আসবেন, তখন হয়তো (ড. ইউনূস-মোদির মধ্যে) কথাবার্তা হতে পারে। তবে এর বেশি কিছু প্রত্যাশা করা হচ্ছে না।’’
আরেক সূত্র জানিয়েছে, ‘‘আনুষ্ঠানিক বৈঠক আয়োজন কঠিন মনে হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার কাছ থেকে প্রতিদিনই ভারতের বিরুদ্ধে নতুন নতুন সমালোচনা আসছে। এসব বিষয় বৈঠকের পথ আরও কঠিন করে তুলেছে।’’
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন
২-৩ এপ্রিল ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য বিমসটেক সম্মেলনে সদস্য রাষ্ট্র হিসাবে অংশ নেবে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড। তবে সম্মেলনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক একাধিক কারণে চাপে রয়েছে।
বিশেষ করে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া ও সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত শেখ হাসিনাকে ফেরত চাইলেও এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে এখনো কোনো জবাব আসেনি।
এক ভারতীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, ‘‘মোদির সঙ্গে বৈঠক হলে ড. ইউনূস শেখ হাসিনা প্রসঙ্গসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলতে পারেন। তাই মোদি হয়তো বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করতে চাইছেন না।’’
এদিকে, ড. ইউনূস ও মোদির মধ্যে একটি বৈঠকের আয়োজন করতে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
