নয়াদিল্লি, ২ মে ২০২৫ — কাশ্মীরের পহেলগাঁয় গত সপ্তাহের প্রাণঘাতী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক ফের তলানিতে। অন্তত ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারত ইসলামাবাদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে, আর তারই জেরে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ভিসা, বাণিজ্য ও কূটনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত হয়ে গেছে।
ভারত সিন্ধু চুক্তিতে অংশগ্রহণ স্থগিত করেছে, কমিয়েছে দূতাবাসের কর্মীসংখ্যা। পাল্টা জবাবে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে সকল বাণিজ্য বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে, কার্যত ২০১৯ সাল থেকেই যে সামান্য বাণিজ্য চালু ছিল, তা প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
তবে প্রশ্ন উঠছে—এই কূটনৈতিক যুদ্ধের মাঝেও দুই দেশের মধ্যে যে অনানুষ্ঠানিক বা ‘গোপন’ বাণিজ্য চলছে, সেটি কি আদৌ বন্ধ হবে?
হাজার কাগজে যেটুকু লেখা, বাস্তবে তার অনেক গুণ বেশি
২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভারত-পাকিস্তান বাণিজ্য ছিল ২.৪১ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ সালে কমে দাঁড়ায় মাত্র ১.২ বিলিয়নে। পাকিস্তান থেকে ভারতে রপ্তানি ২০১৯ সালের ৫৪৭.৫ মিলিয়ন ডলার থেকে ২০২৪ সালে কমে দাঁড়ায় মাত্র ৪৮০,০০০ ডলার। অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত বাণিজ্য এর চেয়ে বহু গুণ বেশি—প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার!
এই ‘অফ-দ্য-রেকর্ড’ বাণিজ্য চলে তৃতীয় দেশ যেমন দুবাই, সিঙ্গাপুর বা কলম্বো হয়ে। ভারতীয় পণ্য রপ্তানি হয় সেখানে, পরে রিলেবেল করে পাকিস্তানে ঢুকে পড়ে। এই পদ্ধতিতে পণ্য আমদানি হয় যেমন তামাক, চা, ওষুধ, ফল, বাদাম, এমনকি প্লাস্টিক পণ্যও।
স্থল সীমান্ত বন্ধ, খরচ বাড়বে
ওয়াঘা-আত্তারি চেকপোস্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাণিজ্যের খরচ বাড়বে। বিশেষজ্ঞ শান্তনু সিং জানান, এতে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পাকিস্তানের ওষুধ খাত এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য।
‘ধূসর বাণিজ্য’ থামবে না সহজে
ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশের কর্তৃপক্ষই চেষ্টা করছে এই অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য বন্ধ করতে, তবে সেটি কতটা সম্ভব? শান্তনু সিং-এর মতে, “চাহিদা যেহেতু আছে, যোগান আসবেই। আর ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের পথ ছাড়তে চাইবেন না।”
ভবিষ্যৎ কী বলছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যতই নিষেধাজ্ঞা আসুক, ভারতীয় পণ্যের প্রতি পাকিস্তানে চাহিদা এতটাই বেশি যে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে বাণিজ্য পুরোপুরি থামানো কঠিন।
সুতরাং, কূটনীতির মেঘ জমলেও, বাজারে বেচাকেনার সূর্য এখনই অস্ত যাবে না।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
