চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রধান রপ্তানি ও আমদানি প্রবেশদ্বার। এই বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নিয়ে বর্তমানে একটি বড় ধরনের বিতর্ক চলছে। প্রশ্ন উঠেছে- এনসিটির ব্যবস্থাপনা কি বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হবে?
বিতর্কের পটভূমি
নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল দেশের কন্টেইনার পরিচালনায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অবকাঠামো। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই এনসিটির ব্যবস্থাপনা পিপিপি (পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ) পদ্ধতিতে একটি দুবাইভিত্তিক আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। যদিও তা চূড়ান্ত হয়নি, সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই উদ্যোগ ফের গতিশীল হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে।
এমন খবর প্রকাশিত হতেই দেশের বন্দর সংশ্লিষ্ট মহল ও নাগরিক সমাজের একাংশ এতে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তারা মনে করছেন, একটি কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া জাতীয় স্বার্থের জন্য হুমকি হতে পারে।
কী বলছে পিপিপি কর্তৃপক্ষ?
পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় এক লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছে, “নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালটি পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের বিষয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ চলমান রয়েছে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।”
অর্থাৎ এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকার মূলত একটি সমীক্ষা পর্যায়ে রয়েছে এবং সুপারিশ পাওয়ার পরেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
প্রতিবাদ ও মতবিরোধ
সরকারি এই আশ্বাস সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট মহলে আশঙ্কা কাটছে না। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মহল, বন্দর শ্রমিক সংগঠন ও নাগরিক অধিকার গ্রুপগুলো এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিবৃতি দিয়েছে। তাদের মতে, বিদেশি নিয়ন্ত্রণ মানেই শ্রমিক স্বার্থ উপেক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি এবং অর্থনীতিতে নির্ভরশীলতার তৈরি হওয়া।
বিশ্লেষণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্দরের দক্ষতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে বিদেশি অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে, তবে তা হতে হবে স্বচ্ছতা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আপসহীন থেকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের একজন অধ্যাপক বলেন, “বিশ্বব্যাপী অনেক দেশ কৌশলগত অবকাঠামোর ক্ষেত্রে বিদেশি নিয়ন্ত্রণকে সীমিত করে চলেছে। বাংলাদেশকে খুব সতর্কতার সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
চট্টগ্রামের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল নিয়ে সরকার যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালাচ্ছে, তা একটি নীতিনির্ধারণী পদক্ষেপ হলেও এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে জনগণের অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। এনসিটির ভবিষ্যত ব্যবস্থাপনা নিয়ে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, এটাই এখন জনসাধারণের প্রধান দাবি।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে আমাদের ফেসবুক পেইজ বা কমেন্ট সেকশনে লিখুন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
