সচিবালয়সহ দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে চলমান বিক্ষোভ, কর্মবিরতি ও কলম বিরতির প্রভাবে প্রশাসনিক কার্যক্রমে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজস্ব বোর্ড, পল্লী বিদ্যুৎ ও বিভিন্ন ক্যাডার কর্মকর্তারা একের পর এক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।
গত ১২ মে ঘোষিত ‘রাজস্ব নীতি ও প্রশাসন সংস্কার অধ্যাদেশ, ২০২৫’ নিয়ে রাজস্ব কর্মকর্তাদের প্রতিবাদে সরকারকে পিছু হটতে হয়। একইভাবে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ প্রত্যাহারের দাবিতে সচিবালয়ে আন্দোলন চলে। প্রশাসন ক্যাডারসহ ২৫টি ক্যাডারের কর্মকর্তারা বৈষম্যের অভিযোগ তুলে কলম বিরতি পালন করেছেন মঙ্গলবার ও বুধবার।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও আমলাতন্ত্রের মধ্যে আস্থার সংকট থেকেই এ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছায়েদুর রহমান বলেন, "আমলারা কখনোই পুরোপুরি নিরপেক্ষ ছিলেন না। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত আমলাতন্ত্রেই আজকের এই সংঘাত।"
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মন্তব্য করেছেন, “আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক আন্দোলনের পেছনে বিজয়ী ও পরাজিত রাজনৈতিক পক্ষগুলোর উসকানি থাকতে পারে।
বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদের মতে, সরকার সংস্কারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হতে পারে, আর বারবার আন্দোলনে দাবি আদায় হলে এ সংস্কৃতি দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হবে। তিনি বলেন, “একদল দাবি আদায় করলে অন্যরাও সেই পথে হাঁটবে।”
সরকারের পক্ষ থেকে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, “সরকারি কর্মচারীদের দাবি জানানোর সুযোগ রয়েছে, তবে প্রজাতন্ত্রের নিয়ম মেনে চলা সবার দায়িত্ব।”
সাম্প্রতিক পরিস্থিতি যদি এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে সরকার প্রশাসনিকভাবে বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
