ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনাহারে কষ্ট পাচ্ছে কুকুর, বিড়ালসহ অন্যান্য নিরীহ প্রাণীরা। সাধারণত শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের সহানুভূতির উপর নির্ভর করেই বেঁচে থাকা এসব প্রাণীরা ছুটির সময় খাবারের অভাবে দুর্ভোগে পড়ে। এ অবস্থায় তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ‘জুলাই ঐক্য’র সংগঠক এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ।
রোববার (৭ জুন) সকাল থেকেই মুসাদ্দিক ও তার সহযোগী টিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে বিড়ালসহ অন্যান্য প্রাণীদের খাবার সরবরাহ করেন। তাদের উদ্যোগে ইতোমধ্যেই প্রায় শতাধিক বিড়ালকে খাবার সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মুসাদ্দিক আলী বলেন, “প্রতিবার ঈদের ছুটির পর ক্যাম্পাসে ফিরে এসে দেখি অনেক বিড়াল অনাহারে মারা গেছে। যারা বেঁচে থাকে, তারাও কঙ্কালসার হয়ে পড়ে। এসব দৃশ্য আমাকে দারুণভাবে নাড়া দেয়। তাই এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি যতটুকু পারি, নিজে খাবার নিয়ে এগিয়ে আসব।”
তিনি আরও বলেন, “বিশেষ করে শিশু বিড়ালগুলোর মায়াবী চাহনি হৃদয় ছুঁয়ে যায়। যখন দেখি তারা গোগ্রাসে খাবার খাচ্ছে, তখন সেই দৃশ্যই আমাদের শ্রমের পূর্ণ প্রাপ্তি।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী আমিন আহসান জানান, “ছুটির সময়টায় প্রাণীগুলোর জন্য জীবনযাপন সবচেয়ে কঠিন হয়ে পড়ে। কেউ পাশে না দাঁড়ালে তাদের বেঁচে থাকাটাই অসম্ভব হয়ে ওঠে। ঈদে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন গরু কুরবানী করে, আমরা চেয়েছি অন্তত ক্যাম্পাসের বিড়ালগুলোর জন্য কিছু করা হোক।”
তারা জানান, ক্যাম্পাসে সহস্রাধিক বিড়াল ও কুকুর রয়েছে, যারা এখন খাবারের সংকটে ভুগছে। তাদের আহ্বান, যার যার অবস্থান থেকে যেন এসব প্রাণীদের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়ানো হয়।
ছুটির সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রাণীগুলোর এই সংকট এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাদের পাশে দাঁড়ানোর এমন মানবিক কর্মকাণ্ড সামাজিক মাধ্যমে ইতোমধ্যেই প্রশংসিত হচ্ছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
