ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং পাকিস্তানকে ‘বিশ্ব সন্ত্রাসবাদের জনক’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ভারত ও পাকিস্তান একসঙ্গে স্বাধীনতা পেলেও এখন একে অন্যের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্রে পরিচিত। একদিকে ভারত আজ গণতন্ত্রের জননী হিসেবে পরিচিত, অন্যদিকে পাকিস্তান বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসের আশ্রয়স্থল হিসেবে চিহ্নিত।
উত্তর ভারতের দেরাদুনে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “এই তুলনাটা মনে রাখা উচিত। পাকিস্তানের মাটি থেকে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করতে হলে বিশ্ব সম্প্রদায়ের উচিত কৌশলগত, কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা।”
রাজনাথ সিং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) সমালোচনা করে বলেন, পাকিস্তানকে সন্ত্রাস দমন প্যানেলের সহ-সভাপতি করা মানে “বিড়ালকে দিয়ে দুধ পাহারা দেওয়া”। তাঁর ভাষায়, “পাকিস্তান বহু বছর ধরে সন্ত্রাসীদের আশ্রয়, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়ে আসছে।”
তিনি দাবি করেন, ৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারীও পাকিস্তানে আশ্রয় পেয়েছিল। এই প্রেক্ষিতে তিনি অবাক হয়ে বলেন, “যে দেশ এমন ইতিহাস বহন করে, তাকে কীভাবে সন্ত্রাস দমন প্যানেলের সহ-সভাপতি করা হয়?”
পেহেলগাম হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ ঘটনার জবাবে চালানো ‘অপারেশন সিদুঁর’ ভারতের ইতিহাসে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। পাশাপাশি, তিনি উল্লেখ করেন, “পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) খুব শীঘ্রই ভারতের অংশ হবে।”
কাশ্মীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পাকিস্তান শত চেষ্টাতেও জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতের উন্নয়ন থামাতে পারেনি। এর অন্যতম প্রমাণ হলো উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুল্লা রেলপথ।”
শেষে রাজনাথ সিং বলেন, “সন্ত্রাসবাদ কখনো ধর্মীয়, আদর্শিক বা রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে ন্যায্যতা পেতে পারে না। রক্তপাত আর সহিংসতা দিয়ে মানবিক কোনো লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।” আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘকে এ বিষয়ে আরও কঠোর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
