ইসরাইলের অবরোধে বিপর্যস্ত গাজা উপত্যকার পথে এবার সড়কপথে রওনা দিয়েছেন শত শত অধিকারকর্মী। গাজায় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানো এবং রাফা সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় চালুর দাবিতে ‘অবিচলিত’ নামে এই সড়ক বহরটি যাত্রা শুরু করেছে তিউনিশিয়ার রাজধানী থেকে।
এপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, অন্তত ১ হাজার ৫০০ অধিকারকর্মীর এই বহর ইতোমধ্যে তিউনিশিয়া পেরিয়ে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে পৌঁছেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন আলজেরিয়া, মৌরিতানিয়া, মরক্কো ও তিউনিশিয়ার নাগরিকেরা।
লিবিয়ার জাউইয়ায় পৌঁছানোর পর বহরটি স্থানীয় জনগণের অভিবাদন পায় এবং পুলিশ বাহিনী থেকে নিরাপত্তাও পায়। এখান থেকে তাদের পরবর্তী গন্তব্য মিশরের কায়রো, সেখান থেকে রাফা সীমান্ত।
বহরে থাকা আলজেরিয়ার অধিকারকর্মী জামিলা শরিতাহ জানান, তিউনিশিয়া ও লিবিয়ার সরকার তাদের এই মানবিক অভিযানে সহযোগিতা করছে। আরেক সদস্য জায়েদ আল-হামামি বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাফা ক্রসিং খুলে দেওয়া এবং গাজায় অবাধে ত্রাণ প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা।”
তবে এই যাত্রার সামনে রয়েছে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত নানা বাধা। মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাফা সীমান্ত এলাকায় যেকোনো বিদেশি বহরের যেতে হলে পূর্বানুমতি নিতে হবে।
অন্যদিকে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই সড়ক বহরের প্রবেশে বাধা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মিশরকে। তিনি বলেন, “এই বহর ইসরাইলি সেনাদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।”
এর আগে ৯ জুন ইতালি থেকে গাজামুখী ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের জাহাজ ম্যাডলিনা, যাতে ছিলেন পরিবেশবাদী গ্রেটা থুনবার্গসহ ১২ জন অধিকারকর্মী, তা আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে আটক করে ইসরাইলি নৌবাহিনী। জাহাজটি বর্তমানে ইসরাইলে এবং অধিকাংশ যাত্রী এখনও সেখানেই অবস্থান করছেন।
সড়ক ও সমুদ্রপথে এই আন্দোলনগুলো ফিলিস্তিনে মানবিক সহায়তার দরজা খুলে দিতে নতুন করে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করেছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
