আইএস-খোরাসান সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে ‘অসাধারণ অংশীদার’ হিসেবে পাকিস্তানের প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য কমান্ড সেন্টকম প্রধান জেনারেল মাইকেল কুরিল্লা।
তিনি বলেন, পাকিস্তান বর্তমানে সক্রিয়ভাবে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই চালাচ্ছে এবং বিশেষ করে পাকিস্তান-আফগান সীমান্ত অঞ্চলে আইএস-কে সন্ত্রাসীদের ধরতে বড় ভূমিকা রাখছে। তিনি জানান, পাকিস্তান সম্প্রতি আইএস-কে-র শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ শরিফুল্লাহকে গ্রেফতার করেছে, যিনি ২০২১ সালে কাবুল বিমানবন্দরে আত্মঘাতী হামলার মূল পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন।
এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনী দিবস (১৪ জুন) উপলক্ষে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
তবে ভারত এই আমন্ত্রণ নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কারণ, সেনাপ্রধান আসিম মুনির গত এপ্রিল কাশ্মীরকে পাকিস্তানের ‘জীবনরেখা’ আখ্যা দিয়ে সাম্প্রদায়িক বক্তব্য দিয়েছিলেন বলে ভারতের অভিযোগ। এই বক্তব্যকে ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর চালানো রক্তক্ষয়ী হামলার উস্কানিমূলক বলে দাবি করেছে নয়াদিল্লি। ওই হামলায় নিহত হন ২৬ জন।
ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস আমন্ত্রণকে ‘কূটনৈতিক ব্যর্থতা’ বলে আখ্যা দিয়েছে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ মন্তব্য করেন, “যিনি হামলার আগে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিলেন, তাকেই আমন্ত্রণ জানানো হলো— যুক্তরাষ্ট্র কী বার্তা দিচ্ছে?”
এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কাশ্মীর ইস্যুতে মধ্যস্থতার আগ্রহের ইঙ্গিতও দিয়েছে, যদিও ভারত কাশ্মীরকে দ্বিপাক্ষিক বিষয় হিসেবে দেখে এবং তৃতীয় পক্ষের ভূমিকার বিরোধিতা করে আসছে।
এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র-ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের জটিলতা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত ভারসাম্যের আলোচনাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
