ঢাকা, ১৯ জুন — ভারত সরকার বিচারবহির্ভূতভাবে মুসলিম নাগরিকদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে একাধিক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় মানবাধিকার সংস্থা। এতে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে এবং জাতিগত নিপীড়নের নতুন ঢেউয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হাজারো মুসলিম নাগরিক, যাদের ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাদেরকে কোনো বিচার ছাড়াই সীমান্তে পাঠিয়ে দিচ্ছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। অথচ এদের অনেকে বৈধ ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র বহন করছিলেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি জানিয়েছে, তারা অন্তত ২০০ জন ভারতীয় নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে, যাদের ভারতীয় পরিচয়ের প্রমাণপত্র রয়েছে। অধিকার সংগঠনের সিনিয়র গবেষক তাসকিন ফাহমিনা বলেন, “ভারত মুসলিম ও নিম্নবিত্ত নাগরিকদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে। এটি আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।”
পুশব্যাকের শিকার বৃদ্ধা হাজেরা খাতুনের অভিজ্ঞতা
৬২ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক হাজেরা খাতুন বলেন, তাকে বন্দুকের মুখে জোর করে সীমান্ত পার করানো হয়। বিএসএফের হুমকির মুখে তিনি ও আরও ১৪ জন মুসলমান বাংলাদেশে প্রবেশে বাধ্য হন। বিজিবি তাদের আটক করলেও ভারতীয় নাগরিকত্বের কাগজপত্র থাকার কারণে বাংলাদেশে আশ্রয়ের অনুমতি দেয়নি।
কাশ্মীর হামলার পর থেকেই বাড়ছে নিপীড়ন
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে কাশ্মীরে হামলায় ২৫ জন হিন্দু পর্যটক নিহত হওয়ার পর থেকেই মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করে বিজেপি সরকার। এরপর ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে পাকিস্তানে বিমান হামলার পাশাপাশি অভ্যন্তরেও ‘বহিরাগত শুদ্ধি অভিযান’ শুরু হয়।
আসামে নিখোঁজ শতাধিক মুসলমান
বিশেষত আসাম রাজ্যে মুসলিমদের লক্ষ্য করে তল্লাশি ও গ্রেফতার বাড়ানো হয়েছে। সেখানে ‘বিদেশি ট্রাইব্যুনাল’ নামক আদালতে মুসলিমদের নিজেদের ভারতীয় পরিচয় প্রমাণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের এ নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, সম্প্রতি আসামে প্রায় ১০০ জন মুসলমান নিখোঁজ রয়েছেন।
গুজরাটে বড় পরিসরে গ্রেফতার, ভুল ধরা পড়ছে পরবর্তীতে
গুজরাটে ৬,৫০০ জনকে ‘বাংলাদেশি’ দাবি করে গ্রেফতার করা হলেও পরে দেখা যায়, তাদের মধ্যে প্রকৃত বাংলাদেশি মাত্র ৪৫০ জন। বাকি সবাই ছিলেন ভারতীয় নাগরিক।
বাংলাদেশের তীব্র প্রতিক্রিয়া
বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, “পুশব্যাক মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের চরম উদাহরণ।” তিনি অভিযোগ করেন, শিশু, নারী, প্রতিবন্ধীদের জঙ্গলে ফেলে দেওয়ার মতো আচরণ কোনো সভ্য দেশের আচরণ হতে পারে না।
উপসংহার
এই জোরপূর্বক বিতাড়ন কেবল মানবিক বিপর্যয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। বাংলাদেশ এ নিয়ে একাধিকবার ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে, তবে এখনও পর্যন্ত কোনো সাড়া পায়নি। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে আঞ্চলিক সম্পর্কের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
