দিনাজপুরের হিলিতে বোরো মৌসুমের মাঝামাঝিতেও হঠাৎ করে চালের দাম বেড়ে গেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি চালের দাম বেড়েছে ৪ থেকে ৫ টাকা। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের সাধারণ মানুষ।
বুধবার (২৫ জুন) হিলি চাল বাজার ঘুরে ক্রেতা, বিক্রেতা এবং খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
চাল কিনতে আসা ক্রেতা মো. রেজাউল করিম জানান, “বোরো মৌসুম চলছে, ধানের ফলনও ভালো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চালের দাম কমার কথা থাকলেও উল্টো তা বেড়ে গেছে।”
একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আরেক ক্রেতা মো. সাব্বির হোসেন। তিনি বলেন, “স্বর্ণা চাল ৫২ থেকে বেড়ে ৫৬ টাকা, আঠাশ চাল ৫৬ থেকে বেড়ে ৫৮ টাকা, মিনিকেট ৬৮ থেকে বেড়ে ৭২ টাকা, মোটা চাল ৫০ থেকে বেড়ে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য এটা খুবই কষ্টকর।”
চাল ব্যবসায়ী মো. মামুন হোসেন জানান, ধানের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে চালকল মালিকরা চালের দাম বাড়িয়েছেন। তিনি বলেন, “আগে প্রতিমণ ধান ১,০০০ থেকে ১,১৫০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা বেড়ে ১,৪০০ থেকে ১,৬০০ টাকা হয়েছে। কিন্তু আগের কেনা ধান থেকেও চাল উৎপাদন করে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, “ভারত থেকে চাল আমদানি বন্ধ থাকায় দেশীয় চালের উপর চাপ বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। যদি আমদানি শুরু হয়, তাহলে হয়তো কিছুটা দাম কমবে।”
এ বিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সোহেল আহমেদ বলেন, “চাল বাজারে যাতে কেউ অবৈধভাবে মজুতদারির মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধি করতে না পারে সে বিষয়ে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজনে টাস্কফোর্স গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চালের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের দাবি, বাজারে স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য বজায় রাখতে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি প্রয়োজন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
