বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম,
সম্মানিত সহকর্মীবৃন্দ, প্রিয় দেশবাসী,
আসসালামু আলাইকুম। শুভেচ্ছা ও শুভ সকাল।
আজ আমরা এক ঐতিহাসিক দিনের সাক্ষী। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মরণে আয়োজিত মাসব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য আপনাদের সামনে উপস্থিত হতে পেরে আমি গর্বিত, বিনীত এবং আবেগাপ্লুত।
১৯৭৫ সালের এই মাসেই আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক বিপ্লব ঘটেছিল, যা দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ পাল্টে দিয়েছিল। গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা, সাহস, ও আত্মত্যাগের সেই অভ্যুত্থান ছিল এক অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের জয়গাথা। সে সময়কার প্রতিকূলতা, দমন-পীড়ন আর বিভ্রান্তির আবহে সাধারণ মানুষ যে অভূতপূর্ব ঐক্য দেখিয়েছিল, তা আজও আমাদের প্রেরণা জোগায়।
এই মাসব্যাপী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আমরা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরবো—
সেই ঐতিহাসিক ঘটনার প্রেক্ষাপট,
নেতৃবৃন্দের আত্মত্যাগ,
এবং কীভাবে জনগণের সম্মিলিত ইচ্ছাশক্তি একটি রাষ্ট্রব্যবস্থায় আলোড়ন তুলেছিল।
আজকের অনুষ্ঠানে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি—
আমাদের পুরো অনুষ্ঠানসূচি ও ঐতিহাসিক তথ্যসমূহের ডিজিটাল কিউআর কোড উন্মুক্ত করা হয়েছে, যাতে যেকোনো নাগরিক সহজেই এসব ইতিহাসে প্রবেশ করতে পারে, জানতে পারে, এবং অনুপ্রাণিত হতে পারে।
সাথেই, আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা বৃত্তির চেক প্রদান করা হয়েছে। এটি আমাদের সেই অঙ্গীকারের অংশ, যেখানে ইতিহাসের আলোয় আমরা আগামীর নেতৃত্ব তৈরি করতে চাই।
প্রিয় দেশবাসী,
এই কর্মসূচি কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি একটি চেতনার অভিযাত্রা, একটি প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে দায়িত্ব হস্তান্তরের আয়োজন।
আমাদের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ভিত্তি যে সংগ্রাম আর আত্মত্যাগের উপর গড়ে উঠেছে, সেই ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে হলে আমাদের স্মরণ করতে হবে, শেখাতে হবে, এবং অনুপ্রাণিত করতে হবে।
আসুন, এই মাসজুড়ে আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে অংশ নিই—
সেমিনার, আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী কিংবা শুধু ইতিহাস জানার মাঝেও আমাদের অংশগ্রহণ যেন হয় সচেতন ও গর্বিত নাগরিকের মতো।
পরিশেষে, আমি সকলকে আহ্বান জানাই—
আসুন, ইতিহাসকে স্মরণ করি শ্রদ্ধায়, মূল্যায়ন করি উপলব্ধিতে, এবং এগিয়ে যাই সাহসে।
জয় হোক সত্যের, জয় হোক মানুষের।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
